মরিচ খেয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আলম

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


কাঁচা মরিচ। নাম শুনলেই শিরদাঁড়ায় হালকা শিহরণ অনুভুত হয়। যদিও তরকারিতে এটি অপরিহার্য উপাদান। তবে শুধু মরিচ খাওয়া বেশ কষ্টকর। তবে একসাথে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ খেয়ে উপস্থিত দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারের দোকানদার মো. আলম শেখ। এটি কোনো কাল্পনিক কাহিনি বা গল্প নয়। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাওনা টাকা নিতে আসা মরিচ মালিকের সাথে বাজি ধরে অল্প সময়েই এই পরিমাণ মরিচ খেয়ে ফেলেন তিনি।
আলম শেখ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পূর্ব মেহেরচন্ডী এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তার দোকানের নামও ‘সিরাজগঞ্জ স্টোর’। সেখানে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি বিক্রি করেন। বাজিতে তিনি তার কাছে মরিচের পাওনা ৯৬০ টাকা জিতে যান। ফলে তাকে আর মরিচের দাম শোধ করতে হয় নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে ‘সিরাজগঞ্জ স্টোর’ দোকানের মরিচ সরবরাহকারী জালাল উদ্দিন পাওনা টাকা নিতে আসেন। এসময় ওই দোকানি আলম শেখ অভিযোগ করে ওই ব্যক্তিকে বলেন, তার মরিচের ঝাঁজ নিয়ে ক্রেতারা প্রায় সময় নানা প্রশ্ন তোলে। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জালাল উদ্দিন নানা কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে জালালের কথায় রাগান্বিত হয়ে ওই দোকানি তার ২৫০ গ্রাম মরিচ একসঙ্গে খেয়ে ফেলার বাজি ধরেন। এসময় চারদিকের জনতা ভিড় বেধে যায়। অবশেষে ২৫০ গ্রাম মরিচে সামান্য লবণ মিশিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই খেয়ে ফেলে উপস্থিত দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেন আলম।
জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ স্টোরের পার্শ্ববর্তী মা ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক শাহিন বলেন, সকালে বেচা-কেনা করতেছিলাম। হঠাৎ দেখলাম ‘সিরাজগঞ্জ স্টোরের’ আলম মরিচ সরবরাহকারীর সাথে তর্ক করছে। তারপর কাছে গিয়ে জানতে পারলাম আলম ৯৬০ টাকার বাজি ধরেছে। সেসময় চারদিকের উৎসুক জনতার ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। সবাই তাক লাগিয়ে দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আলম ২৫০ গ্রাম মরিচ খেয়ে নিলেন। খাওয়ার পর তাকে দেখে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে পাই নি।
‘সিরাজগঞ্জ স্টোরের’ দোকানি আলম শেখ বলেন, নগরীর সাহেব বাজার থেকে আসা মরিচ সরবরাহকারী জালাল আজ আমার কাছে পাওনা টাকা নিতে আসে। জালালের মরিচের ঝাঁজ কম এমন কথা বলা হলে তিনি আমার সাথে তর্ক শুরু করেন। এক পর্যায়ে আমি তার সরবরাহকৃত মরিচ থেকে একসাথে ২৫০ গ্রাম মরিচ খেয়ে ফেলার বাজি ধরি। সকাল থেকেই খালি পেটে ছিলাম। আমি বাজিতে হারলে দ্বিগুন টাকা পরিশোধ করব এমন চুক্তিতে সে রাজি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ২৫০ গ্রাম মরিচ খেয়ে ফেলি।
ঘটনার কয়েকঘণ্টা পরও যোগাযোগ করে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আলম বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এখনো আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আগের মতোই সুস্থ রয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে আলম জানান, আগে কখনো এতগুলো মরিচ খাই নি। তবে একসাথে ৪০টি মুরগির ডিম খেয়েছি। শুধু তাই নয়, একসাথে দুই কেজি গরুর মাংশ খেয়েও আমার কোনো সমস্যা হয় নি বলেও জানান তিনি।