মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী || রাসিক’র নিধন কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। সন্ধ্যা নামলেই বসতবাড়ি, পাড়ার মোড়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র মশার উপদ্রব। কিন্তু মশা নিধনে নেই কোন কার্যক্রম। ফগার মেশিনের ওষুধের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মশা নিধন কার্যক্রম। গত এপ্রিলে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করে রাসিক। তবে মাত্র ২১ দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় মশা মারার অভিযান।
তবে ওষুধের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে রাসিকের মশক নিধন কার্যক্রম। এ অবস্থায় মশার জীবাণুবাহী রোগ চিকনগুনিয়া ও জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন নগরীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ। বর্তমানে মশার বংশবিস্তার রোধে রাসিকের লিংবেট প্রকল্প চালু আছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোনো মশা মরে না, শুধু মশার ডিম এবং লার্ভা নষ্ট হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নগরীর বেশিরভাগ ড্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম স্থবির। ড্রেন ও রাস্তার পাশগুলো থাকে অপরিচ্ছন্ন। ফলে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। একারণে নগরীজুড়ে বেড়েছে মশার দাপট। কয়েল কিংবা অন্য কোনো উপায়েও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই মিলছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। আর এসব মশা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রোগ চিকনগুনিয়ার।
তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, শুধু চিকনগুনিয়াই নয়, রাজশাহীতে মশা নিধন বন্ধ থাকায় এনকেফেলাইটিস রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। চিকনগুনিয়া হয় এডিস মশা থেকে। আর এনকেফেলাইটিস হয় কিউলেক্স মশা থেকে। রাজশাহীতে এ দুটি মশায় আছে। গত বছর রাজশাহীতে এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৪ জন। আর ২০০৮ সালে দেশে সর্বপ্রথম চিকনগুনিয়া রোগ ধরা পড়ে রাজশাহীতেই।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, রাজশাহীতেও ১৫ থেকে ২০ জন চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগি পাওয়া গেছে। তবে তারা রাজশাহীতেই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা ঢাকা থেকে এসেছেন। তবে তারা রাজশাহীতে অবস্থান করলে এডিস মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে।
তিনি জানান, চিকনগুনিয়া রোগটি ছোঁয়াচে নয়। তবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা যদি অন্য কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ায় তাহলে তার শরীরে এই রোগ হতে পারে। সতর্ক না হলে এ রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। আর মশার দাপট বাড়লে জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগেরও ঝুঁকি রয়েছে। কিউলেক্স মশা থেকে এ রোগের জীবাণু ছড়ায়। গতবছরই এ রোগে আক্রান্ত ৫৪ জন রোগি পাওয়া গিয়েছিল।
মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল আবেদীন বলেন, মশা নিধন কার্যত্রমে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং তার পরিষদ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। এপ্রিল মাসে ফগার মেশিনে স্প্রে করায় মশার উপদ্রব কিছুটা কমেছিল। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানেই এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। এছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও রয়েছেন নগরবাসী। একই ধরনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, মশাবাহিত রোগ চিকনগুনিয়া ও এনকেফেলাইটিসের ব্যাপারে সতর্ক হতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিটি করপোরেশনে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সচেতনতামূলক কিছু লিফলেটও পাঠানো হয়েছে। সেগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এ দুটি রোগের লক্ষণ, জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা ও হাড়ে ব্যথার উপসর্গ নিয়ে কেউ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে তার যেন সুচিকিৎসা হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর মশা মারার বিষয়টি রাসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্ব। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
জানতে চাইলে রাসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের মশক নিধন পরিদর্শক মো. সানাউল্লাহ বলেন, ওষুধের অভাবে বন্ধ আছে রাসিকের মশক নিধন কার্যক্রম। দরপত্র আহ্বান করে এ ওষুধ না কেনা পর্যন্ত চলবে না ফগার মেশিন। এ ওষুধ আবার ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে দরপত্র আহ্বানের পরও ওষুধ হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি জানান, বর্তমানে লিংবেট পদ্ধতিতে মশার বংশবিস্তার রোধের চেষ্টা করছে রাসিক। এই পদ্ধতিতে ড্রেনের পানিতে ওষুধ দেয়া হয়। এতে মশার ডিম ও লার্ভা ধ্বংস হয়। তবে এতে উড়তে পারে এমন কোনো মশা মরে না বলে জানান তিনি।