মশার কামড়ে ভোগান্তিতে || নগরবাসী রাসিক’র নিধন কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট: আগস্ট ৫, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, বর্ষায় উপচে পড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ড্রেনের পানি, দুষিত করছে পরিবেশ। ফলে নগরীজুড়ে বাড়ছে মশার প্রকোপ। কয়েল কিংবা অন্য কোনো উপায়েও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই মিলছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারছে না। আর এসব মশা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রোগ চিকনগুনিয়া। ফলে আতঙ্ক ও মশা ভোগান্তিতে নাকাল হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
এদিকে মশা নিধনে কোন উদ্যোগ নেই সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক)। গত এপ্রিলে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করেন সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে মাত্র ২১ দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় মশা নিধনের সে অভিযান। ওষুধের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে রাসিকের এ কার্যক্রম। ফলে মশার জীবাণুবাহী রোগ চিকনগুনিয়া ও জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন নগরীর প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। বর্তমানে মশার বংশবিস্তার রোধে রাসিকের লিংবেট প্রকল্প চালু থাকলেও এ প্রক্রিয়ায় কোনো মশা মরে না, শুধু মশার ডিম ও লাভা নষ্ট হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বেশিরভাগ ড্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো কার্যক্রম নেই। বর্ষায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেনের পানি উপচে পড়ে পরিবেশ দুষিত করছে। ফলে নগরীজুড়ে বেড়েছে মশার দাপট। আর এসব মশা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রোগ চিকনগুনিয়ার। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন- শুধু চিকনগুনিয়াই নয়, রাজশাহীতে মশা নিধন বন্ধ থাকায় জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। চিকনগুনিয়া হয় এডিস মশা থেকে। আর এনকেফেলাইটিস হয় কিউলেক্স মশা থেকে। রাজশাহীতে এ দুইটি মশায় রয়েছে। গত বছর রাজশাহীতে এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৪ জন। আর ২০০৮ সালে দেশে সর্বপ্রথম চিকনগুনিয়া রোগ ধরা পড়ে রাজশাহীতেই।
রোগ দুইটির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, ইতোমধ্যে রাজশাহীতে ৮-১০ জন চিকনগুনিয়া আক্রান্ত রোগি পাওয়া গেছে। তবে তারা রাজশাহীতেই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কোনো রোগি এখনও পাওয়া যায় নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা ঢাকা থেকে এসেছেন। তবে তারা রাজশাহীতে অবস্থান করলে এডিস মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান, চিকনগুনিয়া রোগটি ছোঁয়াচে না হলেও এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা যদি অন্য কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ায় তাহলে তার শরীরে এই রোগ হবে। সতর্ক না হলে এ রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। আর মশার দাপট বাড়লে জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগেরও ঝুঁকি রয়েছে। কিউলেক্স মশা থেকে এ রোগের জীবাণু ছড়ায়। গতবছরই এ রোগে আক্রান্ত ৫৪ জন রোগি পাওয়া গিয়েছিল।
রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, মশাবাহিত রোগ চিকনগুনিয়া ও জাপানি এনকেফেলাইটিসের বিষয়ে সতর্ক হতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিটি করপোরেশনে একটি চিঠি এবং সচেতনতামূলক কিছু লিফলেটও পাঠানো হয়েছিল। সেগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণও করা হয়েছে।
ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, চিঠি পেয়েই আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এ দুইটি রোগের লক্ষণ- জ্বর, সর্দি, মাথাব্যাথা ও হাড়ে ব্যাথার উপসর্গ নিয়ে কেউ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে তার যেন সুচিকিৎসা হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর মশা মারার বিষয়টি রাসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দায়িত্ব। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
জানতে চাইলে রাসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের মশক নিধন পরিদর্শক সানাউল্লাহ বলেন, ওষুধের অভাবে প্রায় দুই মাস ধরে রাসিকের মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। দরপত্র আহ্বান করে এ ওষুধ না কেনা পর্যন্ত কার্যক্রমটি চালানো যাচ্ছে না। আর এ ওষুধ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে দরপত্র আহ্বানের পরও ওষুধ পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি জানান, বর্তমানে লিংবেট পদ্ধতিতে মশার বংশবিস্তার রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ড্রেনের পানিতে ওষুধ দিয়ে মশার ডিম ও লাভা ধ্বংস করা হয়। তবে এতে উড়তে পারে এমন কোনো মশা মরে না। এই ওষুধের মজুতও খুব স্বল্প। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে এই ওষুধও শেষ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
এদিকে রাসিকের মশক নিধন কার্যক্রমের এমন বেহাল অবস্থায় হতাশ নগরবাসী। তারা বলছেন, মশার প্রকোপ এবং সেইসঙ্গে চিকনগুনিয়া ও জাপানি এনকেফেলাইটিস রোগের আতঙ্কে দিন পার করছেন তারা। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে ব্যাথা হলেই তারা এ দুইটি রোগের কথা ভাবছেন। ভয়ে ও আতঙ্কে ছুটছেন হাসপাতালে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ