মসজিদের টাকা আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৪, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে মসজিদে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের চকপ্রভুরাম জামে মসজিদে ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা। এঘটনায় চকপ্রভুরাম গ্রামের আব্দুস সাত্তার বাদি হয়ে ওয়ার্ড মেম্বার লুৎফর রহমান ও মসজিদ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গত ৩০ জুলাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে হেয়ারিংবন্ড রাস্তা ও মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর ইয়াহিয়া নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলজিইডি অফিসের এসও শাহিন সালাম তদন্ত আসেন। তারপর থেকেই টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কিন্তু সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে পড়েন মেম্বার সহ তাদের অনুসারীরা।

অভিযোগে উল্লেখ, গত মাসের ২৮ জুন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গ্রামের মাতবর শের শাহ ঘোষণা দেন ২৯ জুন শনিবার এশার নামাজের পরে মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব নেয়া হবে। সে মোতাবেক শনিবার এশার নামাজ পর ফয়েজের বাড়িতে হিসাব নেয়ার জন্য গ্রামের লোকজন উপস্থিত হন। এসময় মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ শহিদুল মাস্টার ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত হিসাব দেয়। কিন্তু সরকারি অনুদানের টাকা পাননি বলে অবহিত করেন। এঅবস্থায় মসজিদ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন উপস্থিত গ্রামবাসী কে জানায় ২০২৩ সালে সরকারি অনুদানের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০২৪ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মেম্বার লুৎফর রহমান সহ আমি উত্তোলন করি। উপস্থিত গ্রামবাসী সেই টাকা চাইলে মোবাইলে মেম্বারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। মেম্বার তার অনুসারীদের পাঠিয়ে উপস্থিত গ্রামবাসী সহ মাতবরকে গালমন্দ করে উপস্থিত রেজুলেশন খাতা ছিড়ে ফেলে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেন।

মসজিদ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আগামী রোববার গ্রামে বসে মিমাংসা করা হবে।
মেম্বার ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, মসজিদের টাকা আত্মসাত করা হয়নি। তারপরও আমি মসজিদে দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছি। আপনি হিসাব নিকাশে উপস্থিত না হয়ে পালিয়ে যান জানতে চাইলে তিনি জানান আমি পালায়নি যে অভিযোগ করেছে তারাই পালিয়েছে।

অভিযোগ কারী আব্দুস সাত্তার বলেন, গ্রামের লোকজন ভোট দিয়ে মেম্বার বানিয়েছেন, মেম্বার হয়ে মসজিদের টাকা আত্মসাত করছেন। এর চেয়ে লজ্জার আরকি হতে পারে। আমিসহ গ্রামবাসীর দাবি অভিযোগ টি আমলে নিয়ে মেম্বারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যাতে করে মসজিদ বা আল্লাহর ঘরের টাকা আত্মসাত করতে কেউ সাহস না পায়।

থানার এসআই মজিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে গিয়ে মেম্বার সহ গ্রামের লোকজন বসে মিমাংসা করবে বলেছে এবং আগামী রবিবার ও সোমবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ