মসুল বিজয় : শেষ হয়েও হচ্ছে না

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৭, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একদিন আগে মসুল বিজয়ের আওয়াজ উঠেছে। বিজয় উদযাপনও করা হয়েছে। কিন্তু পূর্ণ বিজয়ের জন্য এখনো লড়তে হচ্ছে ইরাকি বাহিনীকে। যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না চূড়ান্ত বিজয়ের যুদ্ধ।
বিশ্বজুড়ে তা-ব সৃষ্টিকারী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ২০১৪ সালে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী শহর মসুল জবরদখল করে। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে শহর পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী। এই অভিযানে আইএসের জঙ্গিদের নিশানা করে বিমান হামলার মাধ্যমে তাদের সাহায্য করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত কয়েকদিন ধরে ইরাক সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র বলছিল, আইএসকে পরাজিত করে মসুল বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার। যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ বিজয় ঘোষণা করা হবে।
রোববার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-আবাদি মসুলে গিয়ে তার যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানান। চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণার কথা থাকলেও তিনি তা পারেননি। মসুলের ওল্ড সিটির একটি আস্তানা থেকে এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে আইএসের সদস্যরা। সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। ছোট এই আস্তানা থেকে তাদের হটিয়ে দিতে অভিযান চালাচ্ছে ইরাকি বাহিনী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, জঙ্গিরা ওল্ড সিটির ১৮০ মিটার লম্বা ও ৪৫ মিটার প্রস্থের একটি আস্তানা থেকে শেষ কামড় বসানোর চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে ইরাকের সুসংগঠিত বাহিনী।
মসুলের যুদ্ধ নয় মাসে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধে শহরের অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কয়েক হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। ৯ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে।
আইএস-বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের কমান্ডাররা বলেছেন, মসুলে নগরযুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও তীব্রতর আকার নিয়েছে।
রোববার মসুলে গিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের ঘোষণা না দিলেও হায়দার আল-আবাদি বলেন, ‘বিজয়ের একদম কিনারে তার বাহিনী।’ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মসুল বিজয়ের ঘোষণার খবর প্রকাশিত হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। হায়দার আল-আবাদি বলেন, ‘শয়তানের অবশিষ্ট অনুসারীরা এখন কয়েক ইঞ্চির মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।’ উল্লেখ্য, আরবিতে আইএস-কে ডায়েস বলা হয়, যার অর্থ শয়তান।
রোববার আল-আবাদি বলেন, ‘এক বা দুটি ছোট আস্তানা এখনো জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ মুহূর্তে তাদের কাছে দুটির বেশি সুযোগ নেই। এক. হয় আত্মসমর্পণ করা; দুই. না হয় মৃত্যু স্বীকার করা।’
সোমবার সকালে ইরাকি বাহিনী জানায়, টাইগ্রিস নদীর পশ্চিম তীরের কাছে ওল্ড সিটির একটি ছোট আস্তানা থেকে মাত্র কয়েক ডজন জঙ্গি প্রতিরোধ করে যাচ্ছে। সেখান থেকে যেসব লোক বেরিয়ে আসছে, ধারণা করা হচ্ছে, তারা জঙ্গিদের পরিবারের সদস্য, যাদের মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা।
মসুল বিজয়ের খবরে লোকজনের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে কিন্তু সেখানে তীব্র পানীয় জলের সংকট রয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের ফাঁদে পড়ে বেসামরিক লোকজন দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে। খাদ্য নেই, বিদ্যুৎ নেই- যেন এক হাহাকারের শহর। উদ্ধারকর্মীরা দখলমুক্ত এলাকার ধ্বংসাবশেষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছে।
জাতিসংঘের এক হিসাবমতে, স্থল অভিযান ও বিমান হামলায় মসুলের ৫ হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। শুধু জনবহুল ওল্ড সিটির ৪৯০টি ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ফলে মসুল বিজয় হলেও মসুলে মানব বিজয়ের পথ অনেকটাই দীর্ঘ হবে বলে মনে করে জাতিসংঘ।
তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন, রাইজিংবিডি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ