মহাআড়ম্বরে দূর্গাপুজার অষ্টমী উদযাপিত

আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৯, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পূজা পরিদর্শনে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা সোনার দেশ

ঘোড়াই চড়ে ঘটা করে ষষ্টমীতে দেবী দূর্গা এসেছেন ভক্তদের মাঝে। বছর ঘুরে মায়ের আগমনে মহা উৎসবের মধ্যে দিয়ে মাকে বরণ করে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। এখন চলছে মাকে তুষ্ট করার নানা আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রোববার নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে পালন করা হয় অষ্টমী। ফল, মিষ্টি, ঘি, মাখনসহ বিভিন্ন পদের খাবারের ভোগ দিয়ে পুজা আর্চনায় উদ্দীপ্ত থাকে প্রতিটি ম-প। ধুপের ধুয়ো, ঘণ্টার টং টং শব্দ আর পঞ্চপ্রদীপের আলোয় উৎসব মুখর পরিবেশে পালন করা হয় দিনটি।
নগরীতে এবার ৭৭টি ম-প স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ম-প সেজেছে বর্ণিল সাজে। ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত ম-পের পরিবেশ। মহাঅষ্টমীতে তিনবার ঘটা বসিয়ে করা হয় আরতি। তিনবারে থাকে তিন ধরনের ভোগের আয়োজন। করা হয় কুমারী পুজা। সকালে অনাহারে থেকে পদ্মার জল তুলে আনে কুমারী মেয়েরা। এরপর ¯œান করে, নতুন কাপড় পরে তারা। সাজানো হয় দেবীর মতো করে। তারপর নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে করা হয় কুমারী পুজা। কুমারী পুজা দেখার আগ্রহ থাকে বেশি। তবে নগরীর সকল ম-পে কুমারী পুজা করা হয় না। ত্রিনয়নী পুজা ম-পসহ কিছু ম-পে করা হয়েছে কুমারী পূজা।
নগরীতে প্রতিবছর ব্যতিক্রমি চিন্তা ধারার আদলে তৈরি করা হয় টাইগার ম-প, স্বপ্নকুটির ম-পসহ নবরূপ ম-প। আর্কষণের কেন্দ্রে থাকে টাইগার ম-প। জনসমাগম এ ম-পে থাকে বেশি। তবে এসব ম-পের বাইরেও পদ্মার সার্বজনীন ম-পে অন্যরকম আমেজ বিরাজ করছে। পদ্মার তীর ঘেঁষে বট বৃক্ষের পাদদেশে সার্বজনীন মন্দিরের পাশে তৈরি করা হয়েছে এ মন্ডপ।
কুমারপাড়ার শিমা ঘোষ বলেন, আমাদের ম-পে সাবাই একসাথে আনন্দ করি। এখানে সব ধর্মের মানুষ আসে। আমাদের পাশে মুসলমানরা বসবাস করে। তারাও আমাদের উৎসব উপভোগ করতে আসে। অষ্টমীতে আমরা তিনবার পুজা করি। সকালে অষ্টমী পুজা, দুপুরে সন্ধি পুজা আর রাত্রে সন্ধ্যা আরতি করা হয়। নারকেল, আমের শাখা, কলার থোকা, নতুন গামছা ইত্যাদি দিয়ে ঘটা করে পুজা করা হয়।
প্রবীণ মিনতি বসু বলেন, আমার বয়স প্রায় আশি বছর। আমাদের আগের আনুষ্ঠানিকতার এখন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে আগের চাইতে এবারের আনন্দটা বেশি। এবার পদ্মার পানি অনেক কাছে এসেছে। পদ্মার ঢেউয়ের সাথে মনের আনন্দও বাড়ছে। এছাড়া এবার সময়টা বেশি। উচ্চ শব্দে মাইকে গান বাজানো হচ্ছে। ঢাকের তালে তালে সবার সাথে আমরাও নাচছি। সবমিলিয়ে খুব ভাল এবারের পুজা।
কঠোর নিরাপত্তায় উদযাপিত হচ্ছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গাপুজা। নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুজা উদযাপন হচ্ছে। আমরা সারাদিন এখানি আছি। সন্ধ্যার পর জনসমাগম বেশি হয়। আমরা নির্দেশনা মতো কাজ করছি। সবমিলিয়ে সুন্দর পরিবেশে পুজা হচ্ছে।