মহাকাশ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে বহুরূপী ব্যাকটেরিয়া

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মহাকাশে পাওয়া রহস্যময় ব্যাকটেরিয়াটি রূপ বদলাতে পারে। মধ্যাকর্ষণ না থাকলেও তাদের কোনো সমস্যা হয় না। বাতাসের অভাবে মৃত্যুবরণও করে না। এ যেন কল্পনার কোনো ভয়ানক জীবাণু! শুনতে অবাক লাগলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস’এ এমনই বহুরূপী ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন সেখানকার নভোচারীরা।
মহাকাশে পাড়ি দেয়া নভোচারীরা এখন এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে আতঙ্কে রয়েছেন। কেননা এরই মধ্যে রহস্যময় এই ব্যাকটেরিয়ায় কেউ কেউ আক্রান্তও হয়েছেন। তবে ভয়াবহ বিষয়টি হচ্ছে, কোনো প্রতিষেধকই এদের কাবু করতে পারছে না।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ বুধবার জানায়, ব্যাকটেরিয়াটি জন্মগতভাবেই যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। ফলে এদের দমন করা সহজ নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর নাম দেয়া হয়েছে ই-কয়েল ব্যাকটেরিয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ব্যাকটেরিয়া মোটেই সাধারণ নয়। এটির রয়েছে প্রতিকূল পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা। আর প্রচণ্ড ধুর্ত হওয়ার কারণেই অবস্থা বুঝে সেটি নিজের রূপ পরিবর্তন করতে পারে। সে জন্যেই প্রতিষেধকের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোনো ব্যাকটেরিয়াকে ধরাশায়ী করা সম্ভব হলেও এটি তার ব্যতিক্রম।
বহুরূপী ব্যাকটেরিয়াটি পৃথিবীর যে কোনো জ্বীবাণুর তুলনায় ১৩ গুন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একে নির্মূলে কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলেই তা রূপ বদলে তাদের ধোঁকা দেয়। ফলে পৃথিবীতে যেসব এন্টিবায়োটিক শতভাগ কার্যকর, সেগুলো ই-কয়েলের কাছে সম্পূর্ণ অসহায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশ কেন্দ্রে যে কোনো জায়গায় এটি বিস্তার লাভ করতে পারে বলে দেখা গেছে। এজন্যে কোনো জীবের প্রয়োজন এদের হয় না। প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ টিকেও থাকতে পারে এটি। সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে পারে স্বচ্ছন্দে।
ব্যাকটেরিয়াটিকে গবেষণা করা বিজ্ঞানী দলের প্রধান ড. লুইস জিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মহাকাশে শক্তিশালী হলেও এটি কিন্তু পৃথিবীতে একেবারেই দুর্বল। তাই ব্যাকটেরিয়াটি পৃথিবীতে যখন আসে তখন তাকে ধ্বংস করা যায়। কিন্তু মহাকাশে অসম্ভব!
তাই মহাকাশে এই ব্যাকটেরিয়াকে কিভাবে ঘায়েল করা যায় তা নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত বিজ্ঞানীরা। এর পাশাপাশি আরেকটি আশঙ্কা নিয়েও তারা কাজ করছেন। সেটি হচ্ছে, মহাকাশে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে এতকাল যে নিশ্চিন্ত বোধ করা গেছে তার পরিবর্তন ঘটেছে।
ফলে মহাকাশ ভ্রমণ করা নভোচারীদের স্বাস্থ্য আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কে জানে.. এমন ভয়ানক জ্বীবাণু আরো রয়েছে কিনা! যা এখনও আমাদের অজানা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ