মহাত্মা গান্ধির জন্মদিন : আহসানগঞ্জ গান্ধি আশ্রমের কিছু কথা

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

ওয়ালিউর রহমান বাবু:


১৯২২ সাল। অবিভক্ত বাংলায় উত্তর বাংলার চলন বিল, আশপাশ এবং আত্রাইসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যায় আক্রান্ত জনগোষ্ঠিকে রক্ষায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বৃটিশ খেদাও আন্দোলন ও স্বদেশি আন্দোলনের পুরোধা প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি এবং প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়কে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান। আগামী ২ অক্টোবর রোববার মহাত্মা গান্ধির ১৫৩ তম জন্মজয়ন্তী।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আহ্বানে মহাত্মা গান্ধি ও বিজ্ঞানী আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় সেসময় বঙ্গীয় রিলিফ কমিটি গঠন করেন। এর একটি শাখা আত্রাইয়ে গঠিত হয়। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে কার্যক্রম চলতে থাকে। স্বদেশি আন্দোলন ও বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক বেগবান হয়। আচার্য্য বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। কোলকাতা মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র নিরেন্দ্রচন্দ্র দত্ত পড়া বন্ধ করে স্বদেশি আন্দোলনে যোগ দিয়ে আত্রাই (আহসানগঞ্জ)-এ চলে এসে এ প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। কয়েকবার কারাবন্দি হয়েও তিনি থেমে থাকেন নি। মহাত্মা গান্ধি ও আচার্য্য বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এখানে এসে কর্মকান্ডকে বেগবান করেন। পরবর্তীতে তাঁরা অনেকবার এখানে এসে অবস্থান করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এ অঞ্চলে এসে এ প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করেন।

বঙ্গীয় রিলিফ কমিটির তত্ত্বাবধানে বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি আন্দোলনকে জাগরিত করতে স্বদেশি পদ্ধতিতে চিকিৎসা বিভাগ, প্রাথমিক ও বয়স্ক শিক্ষা বিভাগ, ঘানি বিভাগ, পশুপালন বিভাগ, গো প্রজনন বিভাগ, ঢেঁকি বিভাগ, মৌমাছি চাষ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহাত্মা গান্ধি এ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়ে জনগণকে স্বদেশি আন্দোলন ও ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন। পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কৃষক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকায় পাকিন্তান সরকার এ প্রতিষ্ঠানকে সুনজরে দেখেনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিন্তানি সৈন্যরা মহাত্মা গান্ধির স্মৃতিবিজড়িত অবস্থানস্থল সহ পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করে দেয়। পরে বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি পুনঃগঠিত হয়। আত্রাই (আহসানগঞ্জ) বঙ্গীয় রিলিফ কমিটি গান্ধি আশ্রমে রূপান্তরিত হয়ে সবার হৃদয়ে স্থান করে নেয়। সরকারি নিবন্ধন পাওয়া সার্বজনিন এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১৩ সদস্যের কমিটি ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টা মন্ডলির পরিচালনায় পরিচালিত হচ্ছে। নয় একর ভূমি জুড়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠান জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ করে শান্তিময় বিশ্ব গড়তে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।

নওগাঁ জেলার আত্রাই (আহসানগঞ্জ) রেল স্টেশনের পূর্ব পাশে অবস্থিত গান্ধি আশ্রমের আরেক প্রাণপুরুষ এই প্রতিষ্ঠানের সহকারী চিকিৎসক, সাধারণ সম্পাদক সমাজসেবী ডা. নিরাঞ্জন দাস নিজেকে এখানে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত রেখেছেন। এখানকার কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে তিনি নিঃস্বার্থভাবে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। স্বদেশি আন্দোলন, ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
লেখক: মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজশাহী।