মহাদেবপুরে চলতি আমন মৌসুমে মাঠে শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

08
এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর
নওগাঁর মহাদেবপুরে চলতি আমন ধান চাষ মৌসুমের মাঝামাঝি এই সময়ে মাঠের পর মাঠে শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। আর এ সময়েই উপজেলার বিভিন্ন মাঠের আমন ধানের তরতাজা গাছগুলোতে পঁচামিনা ও পোকা-মাকড় দমনে কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবারে আমন ধান চাষে খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ধানের চারা রোপণের শুরু ও মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বৃষ্টি কম হওয়ায় জমিতে সেচের পানি নেয়া, দিনমুজুর শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে এবং বিভিন্ন বালাইনাশকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান চাষের খরচ অনেক বেড়েছে বলেই তারা দাবি করেছেন। উপজেলার সুজাইল গ্রামের আবদুল লতিফ, গোষাইপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, হাসানপুর গ্রামের হেফজুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এবার আমন মৌসুমের শুরুতেই বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে শুধুমাত্র মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সর্বমোট ২৪ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা। তবে এর মধ্যে উপশী জাতের ধান ১৯ হাজার ৪শ হেক্টর ও বাকিগুলো রয়েছে দেশিয় আতব জাতের ধান।
মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল, গোষাইপুর, হাসানপুর, চকরাজা, দাশড়া, সরস্বতীপুর, শ্যামপুর, খোর্দ্দনারায়নপুর, বাগধানা, নলবলো, ধনজইল ও চৌমাশিয়াসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ যেন দোল খাচ্ছে। গত রোববার সকালে চৌমাশিয়া গ্রামের ভেতর দিয়ে চৌমাশিয়া ঈদগাহ মাঠের পার্শ্বে একটু দূরেই মাঠের মধ্যে আমন ধানের খেতে দুইজনকে দেখতে পাওয়ার পর কাছে গিয়ে দেখা গেল ধান ক্ষেতের জমির আইলে দাঁড়িয়ে আছেন চৌমাশিয়া গ্রামের প্রবীন কৃষক আশরাফ আলী আর আমন ধানের খেতের ভেতর পিঠে ¯েপ্র মেশিন নিয়ে নেমে বালাইনাশক ¯েপ্র করছেন একই গ্রামের দিনমজুর ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবক। এসময় তাদের দুইজনের সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে জানালেন, এ মাঠেই তাদের ৩ বিঘা স্বর্ণা ৫ জাতের ধান ও ৩ বিঘা সুগন্ধী আতব ধান রয়েছে।

 

 

ধান রোপণের ৩০/৩৫ দিন পর পচামিনা (খোলপোড়া) ও পোকামাকড় দমনে একবার বালাইনাশক ¯েপ্র করা হয়েছে। আমন ধান চাষ মৌসুমের এটা মাঝামাঝি সময়, এ সময়েই ধান গাছের থোপগুলো বৃদ্ধি পায় ও মোটাতাজা হয়। ঠিক এ সময়েই ধানের পঁচামিনা রোগসহ ও বিভিন্ন পোকামাকড় আক্রমন করে থাকে। তিনি হতাশার সুরে আরো জানালেন, কৃষকের ধান শেষ হওয়ার পর বাজারে ধানের দাম বেড়ে যায়। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকের ঘরের ধান শেষ হবার পর লম্বা জিরা বর্তমান মূল্য ৯শ থেকে ৯শ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগামীতে আশানুরুƒপ ধানের দাম পাবেন এ আশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।
অপরদিকে আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি অফিসার একেএম মফিদুল ইসলাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ