মহাদেবপুরে জমি চাষের সময় নারীদের মাছ ধরার দৃশ্য এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২১, ১০:২৫ অপরাহ্ণ

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপু:


নওগাঁর মহাদেবপুরে গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য বর্ষামৌসুমে আবাদি জমিতে গ্রামের গৃহবধুসহ বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়েদের দেশীয় জাতের মাছ ধরার দৃশ্য।

নওগাঁর মহাদেবপুরে চলতি বর্ষামৌসুমে আমন ধান চাষের জমিতে গ্রামীণ নারীদের মাছ ধরার দৃশ্য এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে। গত কয়েকদিন আগে মহাদেবপুর উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের মাঠে ধানী জমি চাষের সময় গ্রামের নারী ও শিশুদের বাঁশের তৈরি ডালি, খইচালা দিয়ে দেশীয় জাতের মাছ ধরার দৃশ্য এলাকাসাবীকে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। কালের আবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী আবাদি জমিতে বর্ষামৌসুমে দেশীয় জাতের মাছ ধরার দৃশ্য তেমন একটা চোখে না পড়লেও গোসাইপুর গ্রামের মাঠে দৃশ্যটি এলাকাবাসীকে আবারো নারা দিয়েছে। আমন ধান রোপনের পূর্বে জমি তৈরির সময় কোমড় বেঁধে হাতে বাঁশের তৈরি খইচালা নিয়ে জমিতে দেশীয় জাতের মাছ ধরছে গ্রামের গৃহবধুসহ বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা। হাঁটুজল পানিতে কাদায় নেমে দলে দলে গ্রামের গৃহবধুসহ ছেলে-মেয়েরা কৈ, পুটি, টাকি, শিং, মাগুর, চিংড়ি, চোপরা, শৌলসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় জাতের মাছ ধরছে। এ সময় কেউ বাঁশের তৈরি খইচালা, কেউ গামছা আবার কেউ দুই হাত দিয়েই ধরছে এসব মাছ। মাছ ধরতে না পারলে দাদিরা নাতি-নাতনীদের মজা করে বলতো, “মাছ নাই, শাক নাই, ছাওয়ালের পাছায় কাদো”। এক সময় আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে আকাশের বৃষ্টি নেমে গ্রাম-বাংলার মাঠের জমি পানিতে কানায় কানায় ভড়ে থাকতো। বর্ষার পনিতে ভড়ে থাকতো গ্রাম-বাংলার পথে প্রান্তরের পুকুর, খাল-বিল, খাড়ি ও নদী-নালা। এগুলোর পানির শ্রোত প্রবাহিত হতো একটি থেকে আর একটিতে। তখন বর্ষার নতুন পানিতে এসব পুকুর, খাল-বিল, খাড়ি ও নদী-নালার কৈ, পুটি, টাকি, শিং, মাগুর, চিংড়ি, চোপরা, শৌলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পরতো মাঠের বিভিন্ন জমিতে। আবাদি জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাছগুলো ডিম ছেড়ে আরো বৃদ্ধি পেতো দেশীয় জাতের মাছ। কালের আবর্তনে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুমে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গ্রাম-বাংলার পুকুর, খাল-বিল, খাড়ি ও নদী-নালার পানি মাঠের জমিতে প্রবাহিত হয় না। এছাড়াও মাঠের জমিতে পানি স্বল্পতার কারণে মাছ না থাকায় গ্রামের গৃহবধুসহ বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়ের আবাদি জমিতে স্বতস্ফুর্ত দেশীয় প্রজাতির উন্মুক্ত মাছ ধরার দৃশ্য বিলপ্ত প্রায়। এ বিষয়ে গোসাইপুর গ্রামের গৃহবধূ ওসনারা বলেন, আগের সময় বর্ষার পানিতে মাঠ-ঘাট ভরে থাকতো মাছও থাকতো অনেক । এখন জমিতে পানি না থাকায় আগের মতো মাছও পাওয়াও যায় না।