মহাদেবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭ শিক্ষকের পদ শূন্য || পাঠদান ব্যহত

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

মহাদেবপুর প্রতিনিধি


মহাদেবপুর উপজেলার ১৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫৭টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রাশাসনিক কার্যক্রমসহ বিদ্যালয়ের প্রায় ১২ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলায়  মোট ১৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি বেসরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, ১১টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, ৩২টি কিন্ডারগার্টেন (কেজি) বিদ্যালয় ও ২২টি ব্র্যাক বিদ্যালয় রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ চাকরিতে যোগ দেয়ায় অধিকাংশ শিক্ষকই বর্তমানে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। অবসর ও মৃত্যুজনিত কারণে ৪৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫৭টি শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষক সল্পতায় উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৮ ৬১ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রাক প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের ১৩টি পদ শূন্য থাকায় এ সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, সাধারণত শ্রেণিকক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পাঠদান করে থাকেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন ভারপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও দাফতরিক কাজকর্মে ব্যস্ত থাকায় বিশেষ করে ৩ থেকে ৫ জন শিক্ষকের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যে ৪৪টি প্রথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই সেসব বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের শিক্ষক না থাকায় অনেক বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছত্রীদের পাঠদান অনিয়মিত হচ্ছে। এদিকে জ্যৈষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নিয়মনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় অনেক প্রশাসনিক জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত  নিতে পারছেন না। যে কারণে প্রশাসনিক কাজকর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাযহারুল ইসলাম বলেন, ৪৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫৭টি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যহতসহ প্রাশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানাবিধ সমস্যা সৃষ্ঠি হচ্ছে ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবন নাহার জানান, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিতে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকস্বল্পতা ও বিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়টি সুবিবেচনা করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ৪৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫৭টি শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ