মহাদেবপুরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ || বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: March 1, 2020, 12:54 am

মহাদেবপুর প্রতিনিধি


মহাদেবপুরের এনায়েতপুরের উন্নত জাতের গমের খেত-সোনার দেশ

বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁ জেলার অন্যতম খাদ্য ভান্ডার মহাদেবপুর উপজেলায় কৃষি ব্যবস্থায় ঘটছে পরিবর্তন। উন্নত জাত এবং অর্থকরী স্বল্প সময়ের ফসলের প্রতি দিন দিন ঝুঁকছে এ এলাকার কৃষকরা। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প খরচে গম উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
এ বছর রেকর্ড পরিমান জমিতে উন্নত জাতের দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য শস্য গমের ফসল চাষ করছেন এ উপজেলার কৃষকরা। গত কয়েক বছর যাবত বাম্পার ফলন ও অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় সচেতন কৃষকরা ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের গম চাষে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছরও প্রতিটি গম চাষি অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
এটি মূলত শীত প্রধান দেশের ফসল, আমাদের দেশে গম আবাদের ইতিহাস খুব বেশি দিন আগের নয়। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ গম গবেষণা কেন্দ্র দেশে গম আবাদে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও কৃষকদের অবদান এক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
কম সেচে অধিক ফসল উৎপাদনসহ রোগ-বালাইয়ের আক্রমন কম হওয়ায় গম চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। পাশাপাশি ধানের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গমের দামও ভাল। ফলে কৃষক কম খরচে অধিক আয়ের লক্ষে গম আবাদে ঝুঁকছেন।
এমনকি বোরো ধানের চেয়ে গম চাষে রাসয়নিক সারের ব্যবহারও কম। ফলে কৃষকের বিনিয়োগ কম, আয় বেশি। বারি-২৫, ২৬, ২৮, ২৯, প্রদীপ, বিজয় ও শতাব্দী এসব জাতের গমে পোকার আক্রমণ কম হয়। ফলে ফলন ভালো হয়। আর তুলনামূলকভাবে অন্য জাতের গমের চেয়ে এসব জাতের গম চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। ফলে কৃষকরা এসব জাতের গম চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৪শ ৫৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৫ শ ২০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ২শ’ ১০ হেক্টর জমিতে বারি-২৫, ১শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বারি-২৬ ও ১শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে বারি-২৮ জাতের গম চাষ এবং বাঁকি জমিতে অন্যান্য জাতের গম চাষ করা হয়েছে।
উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রশিদ জানান, গত বছর ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবার ৩ বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। কৃষি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। আশা করছি বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৪ মণ ফলন হবে।
রোদইল গ্রামের কৃষক সমশের আলী জানান, প্রতিবছরের মত এবারো ২ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। এ পরিমাণ জমি থেকে গত বছরের মত এবারো ২৫ থেকে ৩০ মণ গম পাওয়ার আশা করছি। গত বছর গমের দাম মণপ্রতি পেয়েছি ৮০০ টাকা। এবারো সমপরিমাণ দাম পাওয়ার আশা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানান, কৃষকরা যেন গম চাষে কোন প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সর্বাক্ষণিক নজর রাখছি। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ