মহাদেবপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলুদ চাষ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২২, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

এম.সাখাওয়াত হোসেন,মহাদেবপুর:


নওগাঁর মহাদেবপুরে চলতি মৌসুমে ব্যাপক জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে চাষিরা জানান। উপজেলায় গত বছরের তুলনায় হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে এ বছর বেশি জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। এই উপজেলায় বীজ সংরক্ষণে সরকারি ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রতি বছর কৃষকরা নেয্য মূল্য পাচ্ছেনা ।

উপজেলার মহনিগর, কুমিরদহ, কালনা, শেরপুর, এনায়েতপুর, মহিসবাথান, গোফানগর, নাটশাল, গোপালপুর, ফাজিলপুর, শিবগঞ্জ, সুলতানপুর, পাটাকাটা, রামচরণপুর, কুঞ্জবন, মধুবন, মহাদেবপুর সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, মাঠে কৃষকরা হলুদের পরিচর্চায় ব্যাস্ত সময় পার করছে । মহাদেবপুর সদরের ধান-চাল ব্যাবসায়ী গোলাম রসুল তার বাড়ির পার্শ্বে নিজস্ব জমিতে সখ করে হলুদ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চমৎকার হলুদ হয়েছে বলে তিনি জানান।

মহিনগর গ্রামের হলুদ চাষি আবদুর রাজ্জাক বলেন, বারী-১ জাতের হলুদ আকারে মোটা এবং রং অন্যান্য হলুদের তুলনায় ভাল। এ জাতের হলুদ প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৭৫ মণ উৎপাদন হয়। গত মৌসুমে প্রতি মণ কাঁচা হলুদ বিক্রি হয়েছে আট’শ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে এই মৌসুমে এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার দুইশ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি।

উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়ান কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, হলুদ চাষে জৈবসার ব্যবহারে খরচ খুব কম হয়। বিঘা প্রতি সার ও বীজসহ খরচ হয় প্রায় আট থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমির কাঁচা হলুদ গত মৌসুমে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায়। এ বছর ৭৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকা বিক্রয়ের আশা ব্যাক্ত করেন তিনি।

শিবগঞ্জ গ্রমের নাজিম উদ্দিন জানান, বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ হয়। গত মৌসুমো বারী-১ জাতের ৪০ কেজি হলুদ রোপন করে ২০ মণ হলুদ পেয়েছি। এই মৌসুমেও ফলন ভাল হবে আশা করছি। নাটশাল গ্রামের মাসুদ রানা বলেন, রোপণের সময় বীজ সংকটের কারণে বেশী জমিতে আবাদ করা যায় নি। হলুদ উঠানোর সময় বীজ সংরক্ষণ করতে হয়।

সরকারি ভাবে বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আগামীতে অনেক চাষি হলুদ চাষ করতে আগ্রহী হবে। মহাদেবপুর বাজারের হলুদ ব্যবসায়ীরা জানান, এই উপজেলার হলুদের সুনাম দেশব্যাপী রয়েছে। আমরা প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার হাটে হলুদ কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গাতে নিয়ে যাই। বর্তমান বাজারে শুকনো হলুদের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার অরুণ চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে মহাদেবপুর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। উপজেলার পাশ দিয়ে আত্রাই নদী বয়ে যাওয়ায় নদীমাতৃক এলাকায় উর্বরজমিতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা ব্যাক্ত করেন তিনি। এ ছাড়াও বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ হওয়াই বাগান মালিকদের সাথী ফসল হিসাবে হলুদ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।