মহাদেবপুরে ৭৭ হাজার বিঘা জমিতে চিনি আতপ ধান চাষ || বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলা পর্যায়ে দেশের সর্বাধিক ৭৭ হাজার বিঘা জমিতে সুগন্ধী দেশীয় জাতের চিনি আতপ ধানের ব্যাপক চাষ হয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এর সিংহভাগই মধ্যপাচ্যের দেশগুলোসহ আমেরিকাতেও রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিনি আতপ চাল উৎপাদনকারী অটো রাইসমিল ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চিনি আতপ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চিনি আতপ চালের কোরমা, পোলাও, বিরিয়ানি, পায়েস ইত্যাদির মতো খাবার এ অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয়। চিনি আতপ চাল সুস্বাদু ও শুগুন্ধিযুক্ত হওয়ায় এসব খাবার বাদ দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন কিংবা অনুষ্ঠান যেন অপূর্ণ থেকে যায়। এসব খাবার তৈরির প্রধান উপাদান সুগন্ধি চিনি অতপ চাল। বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসব অনুষ্ঠানের আপ্যায়নে চিনি আতপ চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ছড়িয়ে পড়েছে এ উপমহাদেশের মানুষ। ফলে বিদেশিরাও পোলাও-বিরিয়ানির স্বাদ নিচ্ছেন। এতে বিশ্ববাজারে সুগন্ধি চিনি অতপ চালের চাহিদা বাড়ছে।
মহাদেবপুর উপজেলায় ২০ টি অটো রাইসমিলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টনের অধিক চিনি আতপ চাল প্রক্রিয়াজাত হয়। এ উপজেলার উৎপাদিত চিনি আতব চাল মহাদেবপুরের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, যশোর, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এর সিংহভাগই মধ্যপাচ্যের দেশগুলোসহ আমেরিকাতেও রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিনি আতপ চাল উৎপাদনকারী অটো রাইসমিল ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন। এখন আমন মৌসুমের শেষ মুহূর্ত।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার অরুন চন্দ্র রায় জানান, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় সর্বমোট ২৮ হাজার ৩ শত ৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা। এ মধ্যে ১৮ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে উপশী জাত ও বাঁকি ১০ হাজার ৩ শত হেক্টর বা ৭৭ হাজার বিঘা জমিতে চিনি আতোব ধান চাষ হয়েছে, যা মোট আমন ধানের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ। আউস মৌসুম পরবর্তী সময়ে একই জমিতে চিনি আতপ ধানচাষে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ১০ হাজার ৩ শ হেক্টর জমিতে চিনি আতপ ধানচাষ হয়েছে।
উপজেলার সুজাইল, গোষাইপুর, হাসানপুর, চকরাজা, দাশড়া, সরস্বতীপুর, শ্যামপুর, খোর্দ্দনারায়নপুর, বাগধানা, নলবলো, ধনজইল চৌমাশিয়া ও রাইগাঁসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে সবুজ চিনি আতপ ধানের শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে।
উপজেলার সুজাইল গ্রামের আবদুল লতিফ ও আবদুর রহিম, গোষাইপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, হাসানপুর গ্রামের ইউনুছার রহমান হেফজুল, নাটশাল গ্রমের জাহেদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এবার মৌসুমের শুরু থেকেই বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন। শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তারা।
এ এলাকার কৃষকরা আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হলেও চিনি আতপ ধান কাটতে অরো প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুরের বয়লার ব্যবসায়ী ওসমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গণি জানান, উপজেলায় ২০ টি অটো রাইসমিলে উৎপাদিত চিনি আতপ চাল মানসম্মত ও সুগদ্ধিযুক্ত হওয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক। তিনি আরো বলেন, এই উপজেলার উৎপাদিত চাল দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপাচ্যসহ আমেরিকাতেও রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় চিনি আতপ ধানের চাষ এই উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় জানান, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে শুধুমাত্র মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে দেশিয় চিনি আতপ ধান চাষ হয়েছে । আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে চিনি আতপ ধানের বাম্পার ফলনের হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন শুরু হয়েছে। বিরিয়ানি, পোলাও, জর্দা, পায়েসের মতো সুস্বাদু এসব খাবার বাদ দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন কিংবা অনুষ্ঠান যেন অপূর্ণ থেকে যায়। এসব খাবার তৈরির প্রধান উপাদান সুগন্ধি চিনি অতোব চাল। বিশ্ববাজারে সুগন্ধি চিনি অতোব চালের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চিনি আতপচালের রফতানি বৃদ্ধি সাপেক্ষে কৃষকদের স্বনির্ভর করার আহবান জানান।