মহাদেবপুর উপজেলা চত্বরের পতিত জমিতে হরেক রকমের সবজি চাষ

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ২:১০ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা চত্বরের পতিত জমিতে হরেক রকমের সবজি চাষ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কৃষি বিপ্লবের অংশ হিসেবে কৃষকদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা চত্বর জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে শীতকালীন বিভিন্ন সবজির সবুজের সমারোহ।
এছাড়াও এমন উদ্যোগের কারণে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে কিছু বেকার মানুষের। উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। শুধু একটি উপজেলায় নয়, এমন উদ্যোগ যদি সারা দেশেই বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে বিষমুক্ত সবজি চাষে একটি বিপ্লব শুরু হবে বলে ধারণা সচেতন মহলের। এছাড়াও এমন প্রদর্শনী সবজি খেত দেখে উপজেলায় আসা অনেক মানুষই অনুপ্রাণিত হবেন।
কিছুদিন আগেও উপজেলার কিছু জায়গা ছিল পতিত জমি। বর্তমানে সবজি চাষে বদলে গেছে দৃশ্যপট। চিরচেনা এ সবুজ দৃশ্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের নজর কাড়ছে। এতে সেবা প্রত্যাশীরা তাদের বসতবাড়ির পতিত জমিতে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ‘এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পর ইউএনও মিজানুর রহমান মিলনের অনুপ্রেরণায় গত বছরের অক্টোবর মাসে কৃষিবিদ অরুণচন্দ্র রায়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রায় দেড় বিঘা পতিত জমিতে এ সবজি খেত গড়ে তোলা হয়। এতে অর্গানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করা হয়েছে। বিষমুক্ত এবং সতেজ এসব সবজি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাহিদা মেটাচ্ছেন।
ইট পাথরের শহরে স্বপ্ন বোনা ফসলের মাঠ। সেখানে বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, লাউ, লালশাক, পুঁইশাক, ধনিয়া পাতা, ঢেঁড়শ, পেঁপে, পুদিনাসহ প্রায় ২ রকমের সবজি রয়েছে। কৃষি শ্রমিক গণেশ মন্ডল ও সুকুমলের পদধূলিতে ছোট চারা বেড়ে উঠছে। ধনে পাতার সুভাস ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে-বাতাসে। নীরবেই মুলার শরীর মোটাতাজা হচ্ছে মাটির নিচে। প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে ২-৩ জন কৃষি শ্রমিক ছুটে আসেন উপজেলা প্রশাসনের সবজি খেতে। শরীরের সবটুকু শক্তি আর মনের গভীরে পোষা ভালোবাসায় সিক্ত করে তোলেন কপি, টমেটো কিংবা লাউয়ের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত। খেতে পানি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানি দেয়াসহ পরিচর্যায় সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।
কৃষি অফিসে সেবা নিতে আসা উপজেলার সফাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, উপজেলার পতিত জমিতে সবজি চাষ দেখে ভাল লেগেছে। তিনিও তার বাড়ির দেড় শতক পতিত জমিতে সবজি চাষ করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণচন্দ্র রায় বলেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ একটি দৃষ্টান্ত। নিয়মিত খেতের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছে করলেই উপজেলা চত্বর ছাড়াও দেশের সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের পতিত জমিতে এমন সবজি বাগান গড়ে তোলা যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলন বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির অনুপ্রেরণার প্রতিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ‘দেশে এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না’Ñ এই নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। যেন আমার এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হন। তাই উপজেলা চত্বর ও আশেপাশের পতিত জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা রাখি আগামীতেও যে কর্মকর্তা এই উপজেলায় আসবেন তিনি আমার এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।