মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় নাসা!

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সম্প্রতি পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, বিশাল আকৃতির একটি গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এটি যদি সত্যিই সত্যিই আঘাত হানে তবে ধ্বংস হয়ে যাবে পুরো মানবজাতি। গ্রহাণুর আঘাত ঠেকাতে অবশ্য কাজও শুরু করেছেন তারা। তবে গ্রহাণুকে ঠেকানো না গেলে এখানেই শেষ হবে মানবজাতির ইতিহাস।
নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষক ড. জোসেফ নাথ জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখেছেন, ধেয়ে আসা অসংখ্য গ্রহাণু যদি পৃথিবীর ভূম-ল অতিক্রম করে তবে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। যদিও বায়ুম-লে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রায় সবগুলো মাটিতে পড়ার আগেই জ্বলে নিঃশেষ হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক গ্রহাণুটি যে আকৃতির এবং এর যে গতি তাতে এমনটা না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিস্কোয় অনুষ্ঠিত অসবৎরপধহ এবড়ঢ়যুংরপধষ টহরড়হ-এর বার্ষিক  সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এমন হুমকি মোকাবেলায় আমাদের কোনো প্রস্তুতি এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রহের ধ্বংসাবশেষ যা মহাকাশে গ্রহাণু হিসেবে ভেসে বেড়ায় তা পৃথিবীর কাছে আসলে মধ্যাকর্ষণের টানেই ভেতরের দিকে ধেয়ে আসে। আবার কিছু গ্রহাণুর গতিপথের মধ্যেই পড়ে যায় আমাদের বাসযোগ্য গ্রহটি। প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি বছর আগে এমনই এক গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী থেকে ডাইনোসর প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
অবশ্য পরমাণুবিজ্ঞানীদের ওই সম্মেলনে কীভাবে গ্রহাণুর মতো মহাজাগতিক বিপদ হয়ে পৃথিবীকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় ড. জোসেফ নাথ বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে- ‘আমাদের কিছুই করার নেই’।”
সম্মেলনে জোসেফ আরো বলেন, ‘বড় এবং বিপজ্জনক গ্রহাণুগুলো ছাড়াও বিভিন্ন আকারের ধূমকেতু মাঝে মাঝেই পৃথিবীকে আঘাত করছে। তবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা এমন অনেক গ্রহাণু রয়েছে যা ডাইনোসরের মতো আমাদেরও বিলুপ্ত করতে পারে। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে মনে হতে পারে যে পৃথিবীকে আঘাত হানবে না। তবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া একদমই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কেননা, এসব গ্রহাণুর প্রায়ই পথ পরিবর্তন হয়ে থাকে।’