মহামারিতে পিছিয়ে পড়েছে নারীরা

আপডেট: মার্চ ৮, ২০২১, ১:৫৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


করোনাকালে উদ্যোক্তা ও অনানুষ্ঠানিক খাতের নারী কর্মীদের আয় না থাকা বা কমে যাওয়ায় পারিবারিক টেনশন বেড়ে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। ব্র্যাকের এক জরিপ বলছে, ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করে এই পরিস্থিতিতে তাদের পারিবারিক অশান্তি বেড়েছে। জরিপের তথ্য বলছে, ঘটনাগুলো নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে। উত্তরদাতাদের ৯৪ শতাংশ যার মধ্যে ৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা মনে করেন, অর্থনৈতিক টেনশনের কারণেই তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২০ সালের ৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে জরিপটি করা হয়েছিল। নমুনা জরিপের জন্য মোট ১,৫৯৯ জন নারী উদ্যোক্তা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৫৮৯ জন নারী উদ্যোক্তা এবং এক হাজার নারী শ্রমিক ছিলেন।
মহামারি চলাকালীন নারী উদ্যোক্তাদের পুরুষদের তুলনায় বেশি অর্থনৈতিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। ৯০ শতাংশ সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। যার ফলে আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মহামারির সময় তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশ কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। নারী উন্নয়ন ও অধিকার কর্মীরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে নারী তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে নিপীড়ন ঠেকিয়ে রাখার কৌশল নির্ধারণ করে। করোনাকালে নারী-পুরুষ উভয়েরই আয় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নারীকে আলাদাভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। করোনা পরবর্তীকালে চাকরি বাজারে আবারও তাকে পুরুষের বিপরীতে নতুন করে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে।
রসধমব১
ব্র্যাকের প্রিভেন্টিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটির পরিচালক নবনীতা চৌধুরী বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সে প্রক্রিয়ায় ঢুকে তা নিতে পারছেন অত্যন্ত কম সংখ্যক নারী। কাজেই যে কথা গত কয়েক মাস ধরেই আমরা বলে আসছি, নারী উদ্যোক্তাদের আবারও ব্যবসায় ফিরিয়ে আনতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতে যে নারীরা কাজ হারিয়েছেন তাদের কত শতাংশ আবার কাজে ফিরতে পেরেছেন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় এবং এরা অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মী হওয়ায় নথিভুক্ত না হওয়ায় তাদের উৎপাদনশীলতার চক্র থেকেই হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় এবং নিয়োগযোগ্য কাজে দক্ষতা উন্নয়ন ঘটিয়ে নারীকে আবার কাজে ফেরানো জরুরি। নাহলে মানসিক অশান্তি, সহিংসতার পাশাপাশি পরিবারগুলোতে অপুষ্টি এবং অশিক্ষাও বাড়বে।’
উই ক্যানের সমন্বয়ক জিনাত আরা হক মনে করেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন মূলত নারীদের সামাজিক অবস্থান এবং তাদের পরিবারে তাদের অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত। মহামারিকালে অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলস্বরূপ নারীরা মানসিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। অর্থনৈতিক টেনশনের কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার নারীরা কাজে ফিরতে গিয়েও সেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়ে নারী তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে নিপীড়ন ঠেকিয়ে রাখার কৌশল নির্ধারণ করে। সেটি যখন সে করতে পারছে না তখন দ্বিগুণ পীড়নের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। বাসার পুরুষ সদস্যরা বাইরে যাননি, সন্তানেরা সব বাসায়, তাদের নানা আবদার সব করার পরে নারীর নিজের সময় ছিল না। তার ওপর অর্থনৈতিক বিপর্যয়। সবমিলিয়ে নারীকে নতুন জীবন বাস্তবতায় পড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন