মহামারি করোনা পরিস্থিতি নভেম্বরেই শেষ হচ্ছে ?

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২০, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

ফিকসন ইসলাম


আমি চিকিৎসক কিংবা গবেষক নইÑ নই কোনো পরিসংখ্যানবিদ। তারপরেও এই ৬/৭ মাসের তথ্য উপাত্ত দেখে অনায়াসেই বলা যায়, আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যেই এই পৃথিবী থেকে মহামারির প্রকোপ অবশ্যই কমে আসবে। আগামী ১৭ নভেম্বরের পর করোনার দোর্দণ্ড দাপট খুব একটা থাকবে না। এরমধ্যে যদিও কোনো প্রতিষেধক বা কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার নাও হয় এবং যদি দুনিয়াব্যাপি করোনায় আক্রান্তের হার, সুস্থতা ও মৃত্যুর হার এই নিয়মে চলতে থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস ও আকাক্সক্ষা বাস্তবতার মুখ দেখবেই। মাঝখানে মাত্র ৯০ দিন বা তিন মাসের ব্যবধান। এর মধ্যেই করোনাতে মৃত্যু হার কমে গেছে অভাবনীয় ভাবে। এটা অবশ্যই একটা সুখের খবর। গত ৭ই মে মাসে যেখানে এই মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতি হাজারে একাত্তর জন প্রাণ হারিয়েছেন সে সংখ্যা এখন সাইত্রিশ জনে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশের মতো সব দেশেই তো আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি হয়নি, করা হয়নি হয়রানি আর সারা বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের সংখ্যাতো নগন্য, কিন্তু তার পরেও অবশ্যই এটা সুখবর বিশ্ববাসীর জন্য।
৪ আগস্ট পর্যন্ত যে পরিমাণ মানুষ এই কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল তা থেকে শতকরা হিসেবে ৬৩.৩৪ ভাগ মানুষ এখন সুস্থতা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
করোনা নিয়ে জনগণের মাঝে এমনই আতংক সৃষ্টি করা হয়েছিলো তাতে মনে হয়েছিল যে অচিরেই এই রোগে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারাবে, কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই চিত্র কেবলমাত্র সারা বিশ্বে নয়- বাংলাদেশ আর ভারতের অবস্থাও প্রায় একই। যদিও এখন পজিটিভ মানেই একটা আতংকিত শব্দ তবুও সবশেষ তথ্য উপাত্ত থেকে এখনকার অবস্থাকে আমরা অবশ্যই পজিটিভ বলতে পারি।
কোভিড-১৯ এর ব্যাপকতা যখন দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মৃত্যুর হার ক্রমাগত বেড়ে চলেছিল সেই ভয়াবহ অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ মিলতে পারে এটা কেউ ভাবতেই পারে নি।
গত এপ্রিল মাসে মৃত্যুর হার ছিলো ৫.৩৭%- মানে প্রতি হাজারে প্রায় ৫৪ জন। যেটা এক মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭.১%। মানে মে মাসের ৬ তারিখে প্রতি হাজারে ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, কিন্তু এ ভাইরাস মোকাবিলায় কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হলেও সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা আর সেই সাথে লকডাউন এর মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে মৃত্যু হার ক্রমশ কমতে থাকে। গত ৭ মে থেকে বিশ্বব্যাপি মৃত্যুর হার যে কমতে শুরু করেছিল সেটা আর থেমে থাকেনি। বলা যেতে পারে এই মৃত্যুর হার ক্রমশ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ৪ আগস্ট পর্যন্ত এই হার ৩.৭৭% কিংবা প্রতি হাজারে প্রায় ৩৮ জনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাঝের ৯০ দিনে প্রতি হাজারে ৩৩ জনের বেশি কমে গেছে। এটাও এক ধরনের সুখের সংবাদ। বলা যেতে পারে, গত ৭ মের পর থেকে এই ব্যারোমিটার একটিবারের জন্য উঠেনি, প্রতিদিনই কমেছে।
একটা সংবাদ হয়তো বা সবার নজরে এসেছে যে মাস্ক পড়লে এই করোনায় আক্রান্ত শতকরা ৯০ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব- এটাও একটা অন্যতম কারণ হতেই পারে।
যদিও করোনায় আক্রান্তর সংখ্যা বাড়ছে তবুও সুস্থতার হার কিন্তু কম নয়। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্তের বিপরীত বিবেচনায় শতকরা ৬৩.৩৭ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অথচ গত ৪এপ্রিল এই সুস্থতার হার ছিলো মাত্র ২১.৭৬%। ফলে এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুস্থতার হার একলাফে ৪১.৬% বেড়ে গেছে যা আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে নতুন করে। এই যে তথ্য উপাত্ত দেয়া হলো- তা কিন্তু আমার কিংবা কারোর মনগড়া নয়Ñ ওয়ার্ল্ড ও মিটার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে হিসেব প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে আপডেট করে থাকে সেই হিসেবেই বলা হয়েছে। এখন কথা হলো- এই তিনটি ফ্যাক্টর যদি ঠিকঠাক চলতে থাকে তবে অবশ্যই সেদিন আর বেশি দূরে নাই- যেদিন সারা বিশ্ব ফিরে পাবে তার আপন মহিমা। এ যেন হবে আরেক নতুন পথিবী।
“জন্মিলে মরিতে হবে” এই প্রবাদ বাক্য থেকে মুক্তি পাবার কোনো উপায় নেই। ফলে প্রতিদিন যে হারে মানুষ মারা যায় সে তুলনায় অনেক বেশি মানুষ মারা গেছে- একথা বলা যাবে না। ইতিহাসের ভাষ্য মোতাবেক বিভিন্ন সময়ের মহামারিতে যে সংখ্যক মানুষ মারা গেছে সে তুলনায় এই সংখ্যা এখনো কম। বিশেষত যে হারে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমে আসছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি তাতে করে কেউ না হলেও ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী যে, আজকে যে সংখ্যা প্রতি হাজারে ৩৭ জন সে সংখ্যা যদি এই হারে কমতে থাকে তবে আগামী সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এই সংখ্যা “শুন্য” তে নেমে আসবে অন্তত পক্ষে প্রতিদিনের পরিসংখ্যান সেটাই বলে। অন্যদিকে সুস্থতার হার বেড়ে শতভাগে পৌঁছাবে ইনশাআল্লাহ। সেদিন খুবই কাছে। ৪ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত সারা বিশ্বে মোট আক্রান্ত ছিলো ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭২৩ জন এবং মারা গেছেন ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৪৪ জন। এর মানে মৃত্যুর হার ৩.৭৭% যা সংখ্যায় প্রতি হাজারে প্রায় ৩৮ জন।
তবে আশার কথা এই সাম্প্রতিক সময়ে বেশি বেশি রোগী শনাক্তর পাশাপাশি সুস্থ বা আরোগ্যের সংখ্যাও বেড়েছে। ৩ আগস্ট পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৬৯ জন যা শতকরা হিসেবে ৬৩.৩১% বা ৬৩ জনের বেশি। যা গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ছিলো ৩৭ জনে।
ফলে এতো এতো নেগেটিভ খবর এর পাশাপাশি এটা অবশ্যই পজিটিভ খবর যে মৃত্যু হার যেমন ক্রমাগত ভাবে বেড়ে যাচ্ছে তেমনি সুস্থতার হার মনে আশার সঞ্চার জাগাবে। এই দিন হয়তো বা আর বেশিদিন বহন করতে হবে না। কথায় বলে রাত যত গভীর হবে দিনের আলো ততই কাছে এগিয়ে আসবে। বিশেষজ্ঞরা খানিকটা জোর দিয়েই বলছেন যে “এখন থেকে দিন যত যাবে সুস্থতার হার ততই বাড়ার কথা, গত ২৪ ঘণ্টায় দেড় লাখের বেশি মানুষ করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন। গত ১৬ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৮ জন। ২২ জুলাই মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪০২ জন।
তার মানে কী এই হারে আক্রান্ত আর সুস্থতা বাড়লে কিংবা মৃত্যুর হার কমলেই করোনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে? তা কিন্তু একেবারে নয়। কারণ এখনো মহামারি আকারে পৃথিবীকে গ্রাস করা একসময়ের ইনফ্লুয়েঞ্জা, বসন্ত, ডায়রিয়া বা কলেরা প্রভৃতির মতো রোগ এখনো আছেÑ তবে তার প্রতিষেধকও আছে। ফলে সেভাবে আর আমাদেরকে এই রোগ আতংকিত করে না।
এখন আমরা গলা ছেড়ে গাইতে পারি “আমরা করবো জয় একদিন ” বা ডব ংযধষষ ড়াবৎ পড়সব ংড়সব ফধু.
লেখক: প্রকৌশলী