মহাষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হলো কুমারী পূজা

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ

5
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ সোমবার শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী পালন করবে হিন্দু সম্প্রদায়। গতকাল রোববার মহাষ্টমীর দিন বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর মাত্র এক দিন পরেই মর্ত্য  ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চার দিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার অশ্রু।
সারাদেশের ন্যায় মহাষ্টমীতে নগরীর সাগরপাড়া এলাকার ত্রিনয়ণী সংঘের পূজা ম-পে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমারী পূজার দেবীর আসনে বসানো হয় নগরীর বিবি হিন্দু একাডেমির শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা সরকার সেতুকে। রোববার বিকেলে তিথি অনুযায়ী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী পূজায় অংশ নিতে নগরীর কুমারী কন্যাদের ঢল নামে ওই মন্দিরে। এদিন সকাল থেকেই কুমারীরা পূজা-অর্চনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরে বিকালে ৪টার দিকে পূজা শুরু হলে কুমারীরা অংশ নেয়।
নগরীতে একমাত্র সাগরপাড়ার ত্রিনয়ণী সংঘের পূজা ম-পে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৩ বছর যাবৎ  নগরীর এই ম-পে এ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
স্নিগ্ধা সরকার সেতু সোনার দেশকে বলে, ‘আমি শুধু এবছরই প্রথম কুমারী পূজার দেবীর আসনে বসিনি, বরং এর আগেও বসেছি। আমার অনেক ভালো লাগে।’ মায়ের আসনে বসে আমি সকলের মঙ্গল হোক সবাই ভালো থাকুক এ কামনায় আমি করি এমনটাও বললো বিবি হিন্দু একাডেমির শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা সরকার সেতু।
ত্রিনয়ণী সংঘের সাধারণ সম্পাদক অনিক সরকার সোনার দেশকে বলেন, ‘বিগত ১৩ বছর ধরে রাজশাহী মহানগরীতে আমরাই কুমারী পূজা করে আসছি। আমাদের অনেক ভালো লাগে। আর আমরা আগামীতেও এভাবেই পূজা চালিয়ে যেতে চাই’।
ত্রিনয়ণী সংঘের প্রচার সম্পাদক অভি কুমার সোনার দেশকে বলেন, ‘ত্রিনয়ণী সংঘের উদ্যোগে আমরা রাজশাহীতে দুর্গোৎসবে কুমারী পূজা করে থাকি। আমাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেক সহায়তা করা হয়। যাতে পূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করতে পারি।’
স্নিগ্ধা সরকার সেতুর বাবা মনজ সরকার সোনার দেশকে বলেন, ‘এ বিষয়টা খুব ভালো লাগার বিষয় যে  রাজশাহীতে আমরা কুমারী পূজা করে থাকি। আমার মেয়ে কুমারী পূজায় দেবীর আসনে বসে। তাকে সকলে পূজা করে। সেই জন্য আরো বেশি ভালো লাগে।’
সমনী সরকার বলেন সোনার দেশকে বলেন, ‘সবার চাওয়া থাকে মায়ের কাছে। সেরকম আমারও চাওয়া আছে। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেক খারাপ, তা যাতে ভালো হয় এটাই মায়ের কাছে কামনা করছি।’
এ কুমারী পূজা সম্পূর্ণকারী পুরোহিত দিপঙ্কর বাগচী বলেন, ‘এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা। নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। আমি আমার সাধ্যমত পূজা করতে চেষ্টা করেছি, জানিনা মায়ের কাছে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হয়েছে।’
হিন্দু শাস্ত্র মতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে। বর্ণিত রয়েছে, কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সব দেবতাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।
উইকিপিডিয়া সূত্র মতে, কুমারী পূজা হলো তন্ত্রশাস্ত্র সনাতন ধর্ম মোতাবেক ষোলো বছরের কম বয়সী অরজঃস্বলা কুমারী মেয়ের পূজা। শারদীয় দুর্গাপূজার অংশ হিসেবে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও কালীপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা এবং অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে এবং কামাখ্যাদি শক্তিক্ষেত্রেও কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে। কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে কোন কুমারীই পূজনীয়। তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। এক্ষেত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী যে  কোনো কুমারী মেয়ের পূজা করা যায়।
এদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী ছিল রোববার। গত ৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আগামী ১১ অক্টোবর দেবীর প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শেষ হবে। মূলত মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী এবং মহানবমীতেই পূজার মূল আকর্ষণ।