মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট রোধে হাইকোর্টের ২৫ দফা নির্দেশনা

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে মহাসড়কের ১০ মিটারের মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন হাট বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির অনুমতি না দেয়াসহ ২৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
বৃহস্পতিবার এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, হিউম্যান রাইটস্ অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ সড়ক ও মহাসড়কে ট্রাফিক জ্যাম ও দুর্ঘটনা রোধে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ সম্প্রতি এ নির্দেশনা প্রদান করে।
আদালতের নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, রাস্তা নির্মাণ বা মেরামতের কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছাড়া অন্য কোন সামগ্রী রাস্তার ওপর বা পার্শে¦ রাখতে দেয়া যাবে না, যানবাহন চলাচল ছাড়া মহাসড়কে জনসভা বা অন্যকোন ভাবে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেয়া যাবে না, রাস্তার পার্শ্বে পরিকল্পনা মাফিক বাস স্টপেজ স্থাপন করতে হবে, সড়ক মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।
পর্যায়ক্রমে গবাদিপশু পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত খোলা ট্রাক বা লরি ছাড়া সকল প্রকার খোলা ট্রাক ও লরি চলাচল বন্ধ করতে হবে, মহাসড়কে গতিরোধক কমিয়ে আনতে হবে এবং গতিরোধকে নিয়মিতভাবে উপযুক্ত রং ব্যবহার করতে হবে, যানজট কমানোর জন্য মহাসড়কে স্থান নির্ধারণ করে ফ্লাইওভার ওভারব্রিজ, ওভারপাস বা আন্ডারপাস ও লেবেল ক্রসিং তৈরি করতে হবে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত যানবাহন অপসারণের জন্য হাইওয়ে পুলিশকে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে আরো কার্যক্ষম করতে হবে।
এ ছাড়া মহাসড়কে পথচারী পারাপারের জন্য উপযুক্ত ক্রসিং নির্ধারণ করে আন্ডারপাস বা ওভার পাস নির্মাণ করতে হবে। যত্রতত্র রাস্তা পারাপার বন্ধে উঁচু লোহার রেলিং দিতে হবে, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার দিতে হবে এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে গতিসীমা সীমিত রাখার জন্য রাস্তার পার্শ্বে সাইনবোর্ড লাগাতে হবে, মহাসড়কের ওপর চাপ কমানোর জন্য রেলপথ ও নৌপথের সুবিধা বাড়াতে হবে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাড়ীর মূল কাঠামোর কোন পরিবর্তন করা যাবে না, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপন করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সড়ক মহাসড়কে রাস্তার পার্শ্বে পর্যাপ্ত স্লোপ ও ড্রেন নির্মাণ করতে হবে, চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, ইলেক্ট্রনিক ও পয়েন্ট বেজড ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করতে এবং তার ডাটা বেজ তৈরি করতে হবে, প্রত্যেকটি দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, মটরযান মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম মনিটরিং এর আওতায় আনতে হবে, স্কুলের পাঠ্যক্রমে ট্রাফিক রুল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, জনগণকে সচেতন করতে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, যানজট ও দুর্ঘটনা হ্রাসের গাইড লাইন প্রস্তুত কমিটির সুপারিশ জাতীয় সংসদের গোচরে আনা যাতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা যায় এবং এ নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ৃসমূহ বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
তথ্যসূত্র: বাসস