মাওলানা মামুনুল হকের ফেসবুক কথন মিথ্যে কি সত্যে পরিণত হলো?

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

‘স্ত্রীকে খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। কাজেই সে বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে সেটি থাকবে একান্ত স্ত্রীর।’
সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ৮ এপ্রিল বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে একথা বলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। সংবাদ মাধ্যমে এভাবেই তাঁর বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মূল ধারার গণমাধ্যম বেশ সরগরম আছে। বিশেষ করে যারা মাওলানা মামুনুল হককে সমর্থন করে বক্তব্য রাখছেন- তারা কোনো ধরনের নীতি-নৈতিকতা মেনে কথা বলছেন বলে মনে হয়। তারা যে কোনো উপায়ে হুজুরকে রক্ষার জন্য মিথ্যে পর মিথ্যে বলেই যাচ্ছেন। ইনিয়ে বিনিয়ে দেয়া তাদের বক্তব্যের একটিই লক্ষ্য আর তা হলো হুজুর যা করেছেন ন্যায্যতই করেছেন। আর এটা করতে গিয়ে কত সহজ উপায়ে মিথ্যে কথা বলা যায় তার একটা প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। না এটা শুধু হেফাজতে ইসলামের ব্যাপার মনে হয় নি মূল ধারার রাজনীতির একটা অংশও মাওলানা মামুনুল হককে ঘোর আঁধার হাতরিয়ে হলেও সমর্থন করে যাচ্ছে। এই সমর্থনের সাথে নেপথ্যে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিও যে আছে তা বোঝা যাচ্ছে।
৮ এপ্রিল বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে মাওলানা মামুনুল হক যা বললেন, তাতে একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার হয়েছে যে, তাকে নিয়ে যে সব অডিও-ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তা তিনি নিজের বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এ জন্য তিনি আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েছেন সেটা নিতেই পারেন। কিন্তু তাকে সমর্থন করে ইউটিউবে কিংবা ফেসবুকে যারা মাওলানা মামুনুল হককে পুত-পবিত্র বানাতে চেয়েছেন- তারা এখন কী বলবেন? মাওলানা মামুনুল হকের ফলোয়াররা প্রকাশিত অডিও-ভিডিওগুলোকে নকল প্রমাণে প্রাণপাত করেছেন কিন্তু ৮ এপ্রিলে মাওলানা হক সাহেবের বক্তব্যের পর তারা এখন কী বলবেন?
যাহোক হুজুররা যা বলবেনÑ সেটাই সহি। সেটার ওপর আম-জনতার কথা বলার কী আছে? মাওলানা মামুনুল হক তো বলেই দিয়েছেন-‘স্ত্রীকে খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’ অর্থাৎ স্ত্রীকে মানাতে সত্য গোপন করা যায়। এ কথার মধ্য দিয়ে তিনি সমাজে নারীর অবস্থানকেও চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ নারী এমনই অবোধ ও নিচ যে তাকে মিথ্যে দিয়ে প্রবোধ দিতে হয়! কিন্তু তিনি এই প্রবোধ দেয়ার পক্ষে নিজের অবস্থানকে পরিষ্কার করতে গিয়ে এই সত্যও সামনে এনেছেন যে, তিনি প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। রিসোর্ট কেলেঙ্কারির আগ-মুহূর্ত পর্যন্ত প্রথম স্ত্রীর জানাই ছিল না যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অথচ বিয়ে দু’বছর আগেই হয়েছে- মাওলানা হকের ভাষ্যমতে। প্রথম স্ত্রীর সাথে হক সাহেবের ফোনে কথোপকথন তারই সাক্ষ্য দেয়।
মাওলানা মামুনুল হক ধর্ম-জ্ঞানী ও ধর্ম-চিন্তাবিদ তা নিয়ে মোটেও সন্দেহ নেই। তাই বলে তিনি আর মানুষদের ‘ছাগল’ মনে করবেন- এটাতেও ধর্ম সাঁয় দেয় নেই। একটি মিথ্যেকে সত্যে পরিণত করার প্রয়াসটাও অপরাধ। সেটা ধর্মের ক্ষেত্রেও এবং দেশের প্রচলিত আইনেও।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ