বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

মাঘ কাতুরে বাঘ

আপডেট: January 11, 2020, 12:55 am

স. ম. জামান


মাঘ মাসে নাকি বাঘ কাঁপে। বাবার কাছে এ শুনে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আচ্ছা বাঘের কাঁপন দেখার আয়োজন করলে কেমন হয় ! তাহলে তো সুন্দরবন যেতে হয় ! নাহ্, ওতো দূর তার ওপর এই মাঘ মাস। কিন্তু এই জামান যে হেরে যাবার পাতও নয়, একবার পণ করছে তো করেছেই। তা যে কোরেই হোক পূর্ণ সে করবে করবেই। তাহলে কি করা যায়, কি করা যায়
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একটা আইডিয়া মাথায় এলো। কিন্তু তা এখুনি ফাঁস করা যাবে না। তাই বন্ধু, মুকুট আবীর মানিক আর সম্পাকে না বলেই জামান সোজা দৌড় দিলো স্কুলে দিকে। বন্ধুদের কোনো কথাই সে শুনলো না।
-এই জামান থাম, কোথায় যাচ্ছিস বলে যা
– দেখ আমি মুকুট বলছি, একটু বলে যা ভাই তুই কোথায় যাচ্ছিস
– তোদের কোনো কথা শোনার আমার টাইম নাই। এসে তোদের সব বলবো..
এই বলে জামান একটা রিক্সায় চেপে বসলো
-মামা, সোজা যান। ওই যে ভাড়ুর মোড় আছে ওই মোড় পার হয়ে বাম দিকে একটু থামবেন।
জামান বয়সে ছোট হলেও বুদ্ধিতে সে খুব পাকা। ক্লাস সেভেনে পগলেও সে খুব সাহসী।
-হাঁ, এখানে।
– আচ্ছা বাবা, এটাতো ঘুইরা পার্কের গেটে আইলা। এখানে তোমার কি কাজ বাবা ?
– তা আপনাকে বলা যাবে না। তবে আপনি একটু থামুন। আমি এক্ষুনি আসছি।
এই বলে জামান চিড়িয়াখানার গেটের ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারতে লাগলো। এরপর এক সময় পেয়েছি পেয়েছি বলে চিৎকার দিতে দিতে আবারও ঘুরে দৌড় দিয়ে সেই রিক্সাওয়ালার কাছে আসলো।
-মামা, পেয়েছি চলেন। বাড়ি যাই
-ও বাবা কি পাইলা কিছুই তো বুঝতে পারতেছি না
-ও, এই আমার একটা খুবই গোপন মিশন। দুঃখিত, তাই বলা যাবে না। চলেন আমাকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে আসবেন।
টুংটাং বেল দিতে দিতে রিক্সাওয়ালা জামানকে বাড়ির গেটে এনে মানিযে দিলো। জামান তো বেজাই খুশি। এবার তাহলে বাঘের কাঁপন দেখার একটা সুন্দর ব্যবস্থা হলো।
-আচ্ছা, এ আয়োজনের কথা সবাইকে বলি কিভাবে ?
সম্পা বললো, একটা উপায় আছে। আমরা এক কাজ করি সবাই মিলে ঠাণ্ডা যে লাগছে তা বোঝানোর জন্য শরীরকে কাঁপাতে থাকি। তাহলে বাবা-মা রা যখন প্রশ্ন করবে তখন আমরা আমাদের আয়োজনের কথা বলে দিব্
ো-গুড আইডিয়া।
তাহলে তোরা সবাই আমার বাড়ি সকালে চলে আয়। এই বলে জামান চলে গেল। হ্যাঁ ঠিক পরদিন সকালে সবাই হাজির। আর কথা মত কঁপুনিও শুরু করে দিলো।
-কি রে, তোরা এতো কাঁপছিস কোনো ?
– ও কিছু না আঙ্কেল। জামানের একটু বেশিই ঠাণ্ডা লেগেছে
-হ্যাঁ আঙ্কেল। ও একবারে শীতকতুরে।
-হ্যাঁ, বুঝেছি। তুমিও তো কম যাওয়া না বাপু। তা এলো কাঁপাকাঁপি কোনো বলবে তো ?
– ও কিছু নয়। ঠাণ্ডা তো তাই। তবে আঙ্কেল বলছিলাম কি। শুনেছি, এই ঠাণ্ডায় নাকি বাঘও কাঁপে।
-হ্যাঁ ঠিকই তো শুনেছো, মাঘে তো বাঘও কাঁপে। দেখছো না সিক্স ডিগ্রিরও নিচে তাপমাত্রা। এতে জনজীবন কত কষ্ট পাচ্ছে। আর যারা পথের ধারে , রেল স্টেশন বাস টার্মিনালে রাত কাটায় তাদের কথা একবার ভাবো তো। তারা কতো কষ্টে থাকে। মাঘ মাসের এই ঠাণ্ডায় তো বাঘ কাঁপবেই।
-কিন্তু বাঘের সেই কাঁপন দেখা যায় কিভাবে ?
জামান বললো, কোনো ?
এর তো সহজ উপায় আছে। আমরা পার্কে যাবো। তাহলেই তো বাঘ দেখতে পাবো আর তার সাথে তার কাঁপনও দেখে দিবো এক্কেবারে ফ্রি তে।
জামানের বাবা বললো, ঠিক আছে বুঝেছি, তোমরা চিড়িয়খানা যেতে চাও তো তাই হবে। এবার সবাই খূশি তো। তাহলে এবার সবাই হাসো। হো. হো. হো