মাছটির দাম ৭২ হাজার টাকা

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সামনে পয়লা বৈশাখ। মানুষের মাঝে বৈশাখের কোনো আমেজ দেখা না গেলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। ইলিশের দাম তরতর বেড়ে চলছে। তবে এ লেখাটি ইলিশের দাম নিয়ে নয়, একটি বাঘা আইড় মাছ নিয়ে।
বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার জেলে আল-আমিন যমুনা নদী থেকে একটি বাঘা আইড় ধরেছেন। সেটি নিয়ে তিনি চলে এসেছেন বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে। এসেই তিনি ঢুকে পড়েন প্রিন্টার্স বিল্ডিংয়ের গলিতে। এতো বড় মাছ দেখে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। এই ভিড়ে যিনিই যোগ দেন তার প্রথম প্রশ্ন হয়- মাছটির দাম কত? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পরেই আরো একটি প্রশ্ন ছুড়েন- ওজন কত? এরপর আস্তে আস্তে প্রশ্নের পরিধি বাড়ে- কোথা থেকে ধরেছেন? কখন নিয়ে এসেছেন? কত হলে বিক্রি করবেন, ইত্যাদি ইত্যাদি।
যমুনার জেলে আল-আমিন জানান, মাছটির দাম ৭২ হাজার টাকা। ৪ ফুটের চেয়ে বড় আকৃতির মাছটির ওজন ৪৫ কেজি। একদাম ৭০ হাজার টাকা হলে তিনি মাছটি বিক্রি করবেন। ধরেছেন যমুনা নদী থেকে। বিকেলে তিনি এটি ঢাকায় নিয়ে এসেছেন।
অবশ্য মাছটির ক্রেতার চেয়ে দর্শকের ভিড় বেশি। তাদের মধ্যে কেউ একজন তালিকা করছেন কে কে মাছটি কিনবেন তাদের। প্রতি কেজি মাছের দাম পড়বে ১ হাজার ৬০০ টাকা।
দিনশেষে যমুনার এই জেলে মাছটি কত দামে বিক্রি করতে পারেন সেটাই দেখার বিষয়। কারণ, মাছ পচনশীল। বেলা পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মাছটির দামও পড়ে যেতে পারে।
বিলুপ্তপ্রায় এই মাছটি বছর বিশেক আগে সুরমা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, কংস, তিতাস নদীতে মাঝে মধ্যেই ধরা পড়ত। এখন কদাচিৎ দেখা মেলে। যমুনা নদীতে এমন বাঘা আইড় দুই-তিন বছরে এক/দুইবার ধরা পড়ে। মাঝেমধ্যে যেসব বাঘা আইড় ধরার খবর পাওয়া যায় সেগুলোর ওজন ৩০ থেকে ৬০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।
বাঘা আইড়ের বৈজ্ঞানিক নাম ইধমধৎরঁং নধমধৎরঁং। ঝরংড়ৎরফধব পরিবার ও ঝরষঁৎরভড়ৎসবং বর্গের এই মাছটির ইংরেজি নাম উধিৎভ মড়ড়হপয। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর গায়ের রং বাদামী বা হলুদাভ এবং গায়ে কালো ডোরা থাকে। গায়ের চামড়া অমসৃণ। বাঘা আইড় সাধারণত প্রবাহমান বড় বড় নদীর তলদেশে থাকতে পছন্দ করে। এরা সাধারণত চিংড়ি, ছোটমাছ ও ব্যাঙ খেয়ে থাকে। খাদক স্বভাব ও মুখের গড়নের জন্য এদেরকে স্বাদু পানির হাঙ্গরও বলা হয়ে থাকে। এ মাছটি এখন বাংলাদেশের মহাবিপন্ন মাছের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে।