মাজার উচ্ছেদে বাধা! ফিরে গেল রাসিক

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর সপুরা গোরস্থানে মাজার উচ্ছেদ করতে এসে ভক্তদের বাধার মুখে ফিরে গেল রাসিক। রাসিক কর্তৃপক্ষ গৌরস্থানের মধ্যে হযরত সৈয়দ শাহ বাদরুদ্দিন মাখদুমী ওরফে বাদল (রহ:) মাজারের চাল খুলতে গেলে বাধা দেন ভক্তরা। গতকাল বোরবার দুপুর তিনটায় মাজারের উপরে রক্ষিত টিনের চাল ও বাশ অপসারণের জন্য রাসিকের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে উচ্ছেদের জন্য অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়। নির্দেশ মোতাবেক দুপুরে মাজারের উপর থেকে চালা খুলে ট্রাকে তুলতে থাকেন রাসিক শ্রমিকরা।
এ বিষয়টি বুঝতে পেরে ছুটে আসেন মাজারের ভক্তরা। এরপর তাদের বাধার মুখে পড়ে ট্রাকের উপর থেকে টিনের চালা আর বাঁশের বেড়া ফিরিয়ে দেয় তারা। এঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় গত ২৫ দিন আগে মাজারের উপরের ত্রিপল ছিড়ে যাওয়ায় টিন দেয়া হয় বলে জানা যায়।
স্থানী এলাকাবাসী ও ভক্তদের সুত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে মুর্শিদ কেবলা হযরত সৈয়দ শাহমখদুম আব্দুল কুদ্দুস রুপোষ (রহ:) এর রুহানী খলিফা হরযত সৈয়দ শাহ বাদরুদ্দিন মাখদুমী ওরফে বাদল (রহ:) এর মাজার স্থাপন করা হয়। মাজার স্থাপনের পর থেকে নানাভাবে তা উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়। সম্প্রতি স্থানীয় ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান লিটন মাজার পাকা করণের কাজে বাধা ও অপসারণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভক্তরা। তারপরেও মাজারে টিনের চালা তৈরি করা হয়। কিন্তু তাতেও বাধা দেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এনিয়ে রাসিক কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে পরামর্শ চাইলেও কোন সুরাহা হয়নি। এরফলে গতকাল রোববার দুপুরে রাসিকের পক্ষ থেকে টিনের চালা অপসারণের নির্দেশ দিলে তা সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় রাসিকের কর্মচারীরা।
মাজারের মুর্শিদের ভক্ত মুনতাজ উদ্দিন জানান, প্রায় ১০ বছর আগে সপুরা গোরস্থানে মাজারটি স্থাপন করা হয়। তৎকালীন সময় থেকে এ মাজারটি গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন ভক্তবিরোধীরা। এবিষয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহম্মেদ মাজারের দায়িত্ব নিয়ে লিখিতভাবে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব নেন। এরপর বিষয়টি রাসিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তৎকালীন সাবেক মেয়র মিনু জায়গার বরাদ্দ দেন।
গত দুই বছর এই মাজারটি পাকা করণের উদ্যোগ নেয়া হয়। যার ফলে টিন দিয়ে মাজারের উপরে চালা তৈরি করা হয়। এরপর বিভিন্নভাবে মাজারটি সরানোর উদ্যোগও নেন কাউন্সিলর। আগস্ট মাসের ২৯-৩০ তারিখে ওরস উপলক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাজারের ভক্তরা। কিন্তু তাতে বাধা আসলে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সরনাপন্ন হন ভক্তরা। রাসিক মেয়র আপত্তি জানান এবং অবৈধবেভাবে তৈরি করা চালা অপরারণের নির্দেশ দেয়।
এবিষয়ে ভক্তরা বলেন, একটি মাজারের উপরের অংশ কোন ভাবে ফাকা রাখা যায় না। তাতে দীর্ঘদিন ত্রিপাল দেয়ায় তা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। পুরো মাজার পাকা না করায় তাতে টিনের চালা তৈরি করে রাখা হয়। এ নিয়ে রাসিক মেয়রের কাছে গেলে মেয়র টিনের চালাও সরিয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করতে বলে। কোন কিছু না জানিয়ে মৌখিকভাবে মাজারের চালা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়।
অভিযোগ উঠে মাজারটি স্থাপনের পর থেকেই ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সোবাহান লিটন নানা ভাবে তা উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। শুরুর দিকে আমরা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর কাছে গেলে তিনি এ জায়গা বরাদ্দ দেন। আমরা আবেদন করেছিলাম মাজারের জন্য কিন্তু তিনি জায়গা দেন কবরের সমান। এ বরাদ্দের কথা বর্তমান মেয়র বুলবুলে কাছে নিয়ে গেলেও তিনি মানতে রাজি হননি। অত:পর লোক পাঠিয়ে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি গোরস্থানে একটি করে মাজার স্থায়ী রয়েছে। মাজার কোনভাবেই উচ্ছেদ বা চালা পর্যন্ত অপসারণ করতে দেয়া যাবে না।
এবিষয়ে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সোবহান লিটন বলেন, গৌরস্থানের মাজার নিয়ে রাসিক কর্তৃপক্ষকে মাজারের ভক্তদের লিখিতভাবে জানানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছি। এ মাজারের বিষয়ে আমার কোন ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। জায়গা রাসিকের তারাই বুঝবে কি করবে না করবে। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ