মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে শিবগঞ্জে আবেদনের ছড়াছড়ি || সহস্রাধীক আবেদনে সাংসদের সুপারিশ

আপডেট: জুলাই ১০, ২০২০, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি :


দুই বছর আগে দুই জমজ সন্তান জন্ম দেয়ার পর মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মী এক নারীকে কাগজপত্র দিয়েছিলাম। একবার ৫শো টাকা পেয়েছিলাম। তারপর আর কোনো খবর নেই। পরে আবারো স্থানীয় মেম্বারকে কাগজপত্র দিয়েছিলাম। সেটারও কোনো সংবাদ পাইনা। তাই এবার আবারো সবার মুখে শুনে স্বামী ও দুই জমজ সন্তান নিয়ে দরখাস্ত লেখা ও ছবি তোলার জন্য কম্পিউটারের দোকানে এসেছি। কথাগুলো বলেন শিবগঞ্জ উপজেলার মনকষা ইউনিয়নের রানীনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী জোসনা বেগম।

শিবগঞ্জে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে অপেক্ষায় আছেন আবেদনকারীরা-সোনার দেশ

শুধু জোসনা বেগমই নয়, উপজেলায় সহ¯্রাধিক নারী এভাবেই মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ঢালাওভাবে আবেদন করছেন প্রায় এক মাস আগে থেকে। কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা আবেদন করছে, কার বরাবর করছে? তা জানতে চাইলে রানীনগরের মাবিয়া বেগম, জোসনা বেগম, বিনোদপুর ইউনিয়নের বিশ^নাথপুর গ্রামের ববিতা বেগম, শিবগঞ্জ পৌরসভার ইসরাইল মোড়ের সাবিনা বেগম, পাকা ইউনিয়নের, রোজিনা বেগমসহ নারীরা জানান, আমরা এমপি বরাবর আবেদন লিখে সেখানে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও এমপির সুপারিশ নিয়ে উপজেলা মহিলা কর্মকর্তার কাছে জমা দিচ্ছি। কোন মেম্বার চেয়ারম্যান বলেনি। সবাই করছে তাই করছি।

 

ভাতা পাবো কী না তা জানি না। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে ও হাটে ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটা কম্পিউটার দোকানে নারীরা স্বামী-সন্তান নিয়ে ছবি তুলতে ও দরখাস্ত লিখে নেয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

কম্পিউটার দোকানদার জানান, প্রায় একমাস থেকে এভাবে দরখাস্ত ও ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত আছি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নারী আবেদন করেছে। এ ব্যাপারে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম জানান, আমার জানা মতে এ পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ আসেনি। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার বরাদ্দ আসে। সেটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নিয়ম অনুসারে যাচাই-বাছাই করে অস্বচ্ছল নারীদের তালিকা দেয়া হয়। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে গত জুন মাসে কোনো বরাদ্দ আসেনি। তিনি আরো জানান, যেহেতু নারীরা আবেদন করছে সংসদ সদস্যের কাছে। তাই সুপারিশ করছি জনগণের চাপে। তিনি ইচ্ছে করলে এটি বন্ধ করে নারীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে পারেন।

শাহাবাজপুর ইউনিয় চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক জানান, কোন নির্দেশনা ও বরাদ্দ আসেনি। সেহেতু কিছু বলতে পারবো না। তবে শুনেছি যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা সংসদ সদস্যের বরবার আবেদন করছেন। একই অবস্থা অন্যান্য ইউনিয়নেও।
শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েরা খানম জানান, বিষয়টি আমাদের দফতরের নয়। তারপরও এ প্রথম শুনলাম। যেহেতু ঘটনাটি হয়রানিমূলক। ব্যাপারটি দেখবো।

শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা মোসা. রহিমা রওনক জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা বাবদ বছরে দুইবার বরাদ্দ আসে। সেটি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মনোনিতদের নিয়ম অনুযায়ী দেয়া হয়। কিন্তু এবার এখনো কোনো বরাদ্দ আসেনি। সেহেতু আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না। তবে উপজেলার সহ¯্রাধিক নারী মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য সংসদ সদস্য বরাবর আবেদন করছেন। সে আবেদনগুলোতে সংসদ সদস্য সুপারিশও করছেন। একই আবেদনে কোনো কোনো ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারও সুপারিশ করছেন। তিনি আরো জানান, যেহেতু সংসদ সদস্যে সুপারিশ করছেন, সেহেতু আমরা বাধ্য হয়ে আবেদনগুলি জমা নিচ্ছি এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের বলে দিচ্ছি কোনো বরাদ্দ নেই। কিন্তু তার নাছোড় বান্দার মত আবেদন জমা দিতেই আছে। এপর্যন্ত সহ¯্রাধিক আবেদন জমা পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ আসলে উপজেলায় মিটিংএর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে কোনো বরাদ্দ আসেনি। তাই মিটিংও এখনো হয়নি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বিভিন্নভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও আবেদন আসতেই আছে। তিনি আরো বলেন, কোনো কোনো কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটো ব্যবসায়ীরা ফেসবুকের মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে নারীদের আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করছে। আমি তাদের চাপ থামতে না পেরে সুপারিশ করছি। তবে বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই। তবে জরুরি ভিত্তিতে যারা ফেসবুকের মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।