মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশই তরুণ উদ্বেগ কাটানোর উপায় কী?

আপডেট: জুলাই ৩, ২০২২, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

দেশে মাদকের বাড়-বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়েও মাদকের সরবরাহ ও মাদকাসক্তির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। সভা-সেমিনার হচ্ছে-সচেতনতার কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। তার জন্য মাদকের বিস্তার ঠেকে নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির তৎপরতার পরেও মাদকের চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। এসব মাদক শহর ছাড়িয়ে একেবারে তৃণমূলে গিয়ে পৌঁছেছে। মাদকের শিকারে পরিণত হচ্ছে তরুণরাই বেশি।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে, মাদকাসক্তদের মধ্যে তরুণ-যুবরাই ৮০ শতাংশ। তরুণ-তরুণীর আগের জীবন অত্যন্ত সুন্দর। কেউ ভালো শিক্ষার্থী, কারো কারিগরি জ্ঞান ভালো। কেউ ভালো ছবি আঁকতেন, কেউ ভালো গান করতেন। কিন্তু এরা মাদকাসক্ত বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ তরুণ-তরুণী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। আর মাত্র ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ যুব সমাজ কৌতুহলবসত মাদক সেবনে ঝুঁকছে।
সমাজের ১৫-৩০ বছর বয়সীদের মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অধিদফতরের ২০২১ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৬-৪০ বছর বয়সীদের প্রায় ৮৪ দশমিক ২৭ শতাংশ মাদকাসক্ত। এই বয়স সীমার মধ্যে ২১-২৫ বছর বয়সী যুবকরা রয়েছেন ‘সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে’। ১৬-২০ ও ২৬-৩০ বছর বয়সীরা ‘মধ্য ঝুঁকি’; ৩১-৩৫ বছর বয়সীরা রয়েছেন ‘স্বল্প ঝুঁকিতে’।
একটি বেসরকারি হিসাব অনুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশের মাদকাসক্ত রয়েছে ৭৫ লাখেরও বেশি। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ যুবক-যুবতী। ৪৩ শতাংশ বেকার, ৬০ শতাংশ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ৪০ শতাংশ অশিক্ষিত, ৪৮ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং ৫৭ শতাংশ যৌন অপরাধী। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ ধূমপায়ী।
সরকারি দপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, মাদকের সরবরাহ যেমন আছে, তেমনি সমাজের অভ্যন্তরেই এর চাহিদাও আছে। চাহিদা তখনই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে যখন সরবরাহ বন্ধ করা যাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রচলিত মাদকসমূহ মোটেও দেশে উৎপাদন হয় না। সীমান্ত পেরিয়েই বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আর সীমান্ত রক্ষীদের দ্বরাই কেবল মাদকের অনুপ্রবেশ একেবারে বন্ধ সম্ভব নয়। সম্ভব হতে পারে তখনই যখন কি না সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের মাদকবিরোধী কাজে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তার জন্য সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনটাও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। জীর্ণসার বেড়া রেখে মাদক থেকে নিরাপদ থাকার কাজটি কঠিনই শুধু নয়, অসম্ভবও বটে। মানুষের সম্পৃক্ততাই জীর্ণ বেড়াকে মজবুত করতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ