মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য || কঠোর আইনি ব্যবস্থা চাই

আপডেট: মার্চ ২২, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সুযোগটি বড় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা যখন সদলে আত্মসমর্পণ করছে তখন তার সাক্ষি এলাকাবাসী তো বটেই গণমাধ্যমের সুবাধে রাজশাহী জেলার অধিবাসী এমনকি দেশের মানুষ জানছে। মাদক ব্যবসায়ীরা এ ক্ষেত্রে এলাকার মানুষের কাছে তাদের অপরাধ কিছুদিনের জন্য হলেও এড়াতে পারবেÑ অন্যদিকে পুলিশের কাছেও তারা সহানুভুতির জায়গা পেয়ে থাকে। এটাকে ব্যবহার করে তারা আরো সতর্কতার সাথে মাদকের ব্যবসাটা নির্বিঘেœ চালিয়ে যেতে পারে। এ কথারই সাক্ষ্য দেয় দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৪ মার্চ ২০১৭ তে আতসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবসা তো ছাড়েনইনি বরং মাদক ব্যবসায় তারা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যে বলা হয়, মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। কেউ কারাগার থেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। কেউ রয়েছেন জামিনে। আবার কেউ কেউ পুলিশের কাছে ‘পলাতক’ থাকলেও মাদক ব্যবসা ঠিকই চালিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।
পবার বিস্তীর্ণ সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল ও গাঁজা প্রবেশের পর তা অতিদ্রুত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা। পুরো পবা উপজেলায় অন্তত অর্ধডজন গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৪০ জন বড় মাদক ব্যবসায়ী। আর এসব ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই শতাধিক ছোট স্পট ব্যবসায়ীদের কাছে তিন ধরনের মাদক সরবরাহ করছে। পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে ফেন্সিডিল ও গাঁজার  চালান।
মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশের উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু কথিত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তা কতটুকু যৌক্তিক পরিণতি লাভ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বরং এটি সংশয়েরও এই কারণে যে, এই আত্মসর্মপণের ফলে এলাকার মানুষের কাছে তারা ‘ভাল মানুষের ভাবমূর্তি’ লাভ করছে। কিন্তু তারা ওইসব মানুষকে বোকা বানাচ্ছে, ধোকা দিচ্ছে।
আমরা জানি, মাদকের সমস্যা জাতীয় আবার আন্তর্জাতিক। আন্তর্জাতিক শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধ জগতের এই ব্যবসা পরিচালিত হয়। মাদক পাচারের সাথে জড়িত অপরাধীরা এ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে থাকে। এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রসারের ফলে গুরুত্বের দিক থেকে এটি জ্বালানি তেলের ব্যবসাকে ছাড়িয়ে গেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্কিনীরা সারা বছর তেল কিনতে যতো টাকা ব্যয় করে, সে দেশে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকদ্রব্য বিক্রির মাধ্যমে আয় করে তার চেয়ে দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীরাও মাদক চোরাচালান করে বিপুল অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলেছে। তারা হঠাৎ করেই এই অবৈধ পেশা ছেড়ে ‘ভাল মানুষ’ হয়ে যাবে এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। পবার আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের যারা খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা তাদের পুনর্বাসন করা সহজ হলেও ‘কথিত গডফাদার’দের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা মোটেও সহজ নয়। বরং আত্মসমর্পণের সুযোগ সৃষ্টি করে তারা সামাজিক সহানুভুতি পাচ্ছেÑ কিন্তু সহানুভুতির মর্যাদা তারা রাখছে না। যারা সরকারের ভাল উদ্দেশ্যকে তাদের অবৈধ উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহার করছে তাদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ