মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ আরএমপি’র ৬ ছিনতাইকারী পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে সন্ধ্যার পর পথচারীকে হেনস্তা ও মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিকাশে অর্থ আদায় ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার শিরোইল টার্মিনাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জসহ ৬ জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক এ আদেশ জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুহুল কুদ্দুস।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার শাকপুর এলাকার বাসিন্দা কাতার প্রবাসী খোরশেদ গাজী ও তার ভাগ্নি জামাই আইসিটি অ্যাক্টের মামলায় রাজশাহীতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে তার অসুস্থ এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করে শিরোইল বাস টার্মিনালে আসেন। টার্মিনালে আসলে এএসআই সেলিম শাহজাদা, শ্রী শংকর চন্দ্র, সারোয়ার আলম, শাহ আলম ও রিপন আলী তাদের জোর করে পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তাদের থেকে নগদ ১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের মাঝে ধস্তাধস্তি হয়। খোরশেদ আলী পালিয়ে যান। কিন্তু তার ভাগ্নিজামাই শাহীনকে আটক করে রাখে তারা। এসময় তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। সর্বশেষ বাধ্য হয়ে ৪ হাজার ৬০০ টাকার বিনিময়ে শহিনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এসময় তাদের কাছে ভাড়া না থাকায় নগরীর ফুটপাতেই অবস্থান নেন। উপায় না দেখে সেই রাতেই ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান তারা।

পরবর্তীতে বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই নিবারণ চন্দ্র বর্মন তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এঘটনায় পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় বাস টার্মিনাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই সেলিম শাহাজাদাসহ ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুহুল কুদ্দুস জানান, ওই ঘটনার অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে শিরোইল বাস টার্মিনাল বক্সের ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত ছয়জনের মধ্যে দুইজন কর্মকর্তা ও চারজন কনস্টেবল। দুই কর্মকর্তা হলেন, শিরোইল টার্মিনাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এটিএসআই নাসির উদ্দিন ও এএসআই সেলিম।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন জানান, অসহায় যাত্রীদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ভয় দেখিয়ে তারা নগদ টাকা ছিনতাইসহ পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে রাস্তায় ঘুরছিলো। এসময় তারা ৯৯৯ এর সহযোগীতা নিলে তিনি গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ