মাদক: মৃত্যুর পথে এগিয়ে নেয়

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

ড. মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম
বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। একটি দেশও এর কবল থেকে মুক্ত নয়। বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের প্রতি মাদক হুমকি স্বরূপ। মাদক বর্তমানে জাতীয় ও বৈশ্বিক সমস্যা। মাদক বলতে এমন বস্তু সমূহকে বুঝায় যা কোন মানুষকে আসক্ত ও নির্ভরশীল করে তোলে এবং শরীরে প্রবেশ করার পর কিছু ¯œায়বিক প্রতিক্রিয়ার উদ্রেক ঘটে এবং পুনরায় এসব দ্রব্য গ্রহণে তীব্র আগ্রহ জন্মায়। মাদক এমন একটি বস্তু যা অশ্লীলতার মূল কারণ। মাদক বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। বিবেক আচ্ছন্ন হলে জ্ঞান লোপ পায়। ফলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। যার ফলে মানুষ গুরুতর অন্যায় করে থাকে। এক পর্যায়ে মাদক তাকে মৃত্যুর পথে এগিয়ে নেয়। সোভিয়েত বিজ্ঞানি ফিওদর উগলভ এর মতে, ‘মাদক মানব জাতির জন্য যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও প্লেগের চেয়ে ভয়াবহ। আজকের পৃথিবীতে মাদক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সেই অর্থে আমাদের যুব সমাজও মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখিন। মাদক ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে আমাদের সমাজে ঘৃণিত, নিন্দনীয় বলে গণ্য করা হয়। মাদকের মধ্যে মরফিন, হেরোইন, কোকেন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ, গাঁজা, চুয়ানি (দেশিয় তৈরি মদ) প্রভৃতি প্রধান।

Picture 1
মাদককে প্রধানতঃ দু’টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. অবসাদগ্রস্ত (উবঢ়ৎবংংধহঃ): অ্যালকোহল, হেরোইন, কোকেন এবং ২. উদ্দীপনকারক (ঝঃরসঁষধহঃ): অ্যাস্পোটামিন, ক্যাফেইন, মরফিন, ইয়াবা ইত্যাদি। এক পরিসংখ্যানে জানা যায় যে, আমাদের দেশে মাদকের পেছনে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। নিষিদ্ধ এই ব্যবসার সাথে জড়িত আছে ১ লক্ষেরও অধিক মানুষ। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য মতে, মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার এবং মাদক সেবন বন্ধ করতে পারলে সমাজের ক্ষতিকর প্রভাব ৮০ ভাগ কমে যাবে।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান হাফিং পোস্টে এক প্রতিবেদনে বলেন, বৈশ্বিক মাদক নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে বাস্তবতার বাহিরে আবেগ ও ভাবাদর্শই প্রাধান্য পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত হোরোইন সেবনের কারণে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। কিন্তু এর আইন ও শাস্তি আগের মতোই রয়েছে। গত পঞ্চাশ বছরে নীতির কারণে মাদকের দ্বারা যে সহিংসতা, দুর্নীতি ও অস্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ সংক্রান্তে অপ্রত্যাশিত ফল বলে আখ্যায়িত করেছে। কফি আনান তার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, মাদক পাচার-সংক্রান্ত অপরাধে ২০১৩ সালে মেক্সিকোতে ১৬ হাজার হত্যাকা- ঘটেছে। বৈশ্বিকভাবে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ সফল হয়নি। অনেকে হিসাব করছেন বছরে মাদকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় খরচ নুন্যতম ১ বিলিয়ন ডলার তথা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি মানুষ মাদকের ব্যবহার করছে এবং এ জন্য ব্যয় করছে ৩৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ মোটামুটি ২৬ লাখ কোটি টাকা। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পণ্যবাজার। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ হাজার অব্দের পূর্বে অপিয়াম পপির ব্যবহার ছিল এশিয়া মাইনরের সুনোর সভ্যতায়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে চিনে উত্তেজক মাদক এফিড্রিনের উৎস ‘মা-হুয়াং’- এর ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়। বৈদিক যুগে দেবতারা পান করতো সোমরস্্, যা অ্যালকোহলেরই আরেক নাম।
পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মে মাদকের ব্যবহার সম্পর্কে প্রচ- হুশিয়ারি ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্যই হারাম’-নাসাঈ। ‘আল্লাহর শপথ। মদ ও ঈমান একত্রিত হতে পারে না। এমন কি একটি অন্যটিকে বের করে দেয়’-নাসাঈ। মদ পানের ফলে শরীর তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়ে, মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বোধের। ফলে মদ্যপ বা মাতাল ব্যক্তি ব্যভিচারসহ সহিংসতার মতো যে কোন পাপ কাজ অনায়াসে করে ফেলতে পারে। হাদীসে আরও বলা হয়েছে, মদ পান করো না, মদ সকল পাপের দরোজা স্বরূপ’- ইবনে মাজাহ। মদের ওপর দশ প্রকারের অভিসম্পাত করা হয়েছে। আর তা হলো- ১. স্বয়ং মদ অভিশপ্ত, ২. তা উৎপাদনকারী, ৩. যে তা উৎপাদন করায়, ৪. মদ বিক্রেতা, ৫. ক্রেতা, ৬. তা বহনকারী, ৭. যার জন্য বহন করা হয়, ৮. মদের মূল্য ভোগকারী, ৯. মদপানকারী এবং ১০. মদ পরিবেশনকারী, এরা সকলেই অভিশপ্ত- ইবনে মাজাহ।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বলো, দু’য়ের মধ্যেই মহাদোষ, মানুষের জন্য উপকারও আছে। কিন্তু উপকারের চেয়ে ওদের দোষই বেশি। সুরা নিসার ৪৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে- ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজে যেওনা’। সুরা মায়িদার ৯০ ও ৯১ নং আয়াতে বর্ণিত আছে- ‘হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য পরীক্ষা ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো যাতে তোমরা সফল হতে পারো। শয়তান তো মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে এবং আল্লাহর ধ্যানে ও নামাজে তোমাদের বাধা দিতে চায়। তাহলে তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না’? পবিত্র হাদিস শরীফে আরও বলা হয়েছে, ‘মাদক দ্রব্য তা-ই যা জ্ঞানবৃদ্ধি লোপ করে’। বলা হয়েছে, ‘মাদকসেবিদের জন্য বেহেশত হারাম’।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী বেহেশতে যাবে না’-ইবনে মাজা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির লোক জান্নাতে যাবে না। তার মধ্যে এক শ্রেণি হলো নেশাদার দ্রব্য পানকারী’ – আহমদ, মিশকাত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির লোকের প্রতি আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন, তন্মধ্যে এক শ্রেণি হলো সর্বদা মদ পানকারী’-(নাসায়ী, মিশকাত)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে বস্তুর অধিক পরিমাণ ব্যবহারে নেশা আনে ওই বস্তুর অল্প ব্যবহারও হারাম’-আহমদ, বুলগুল মারাম। ওসমান (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মাদক দ্রব্য থেকে বেঁচে থাকো। কেননা নেশাদার হচ্ছে অশ্লীল কাজের মূল’। যে ব্যক্তি মাদক দ্রব্য থেকে বেঁচে থাকে না তারা আল্লাহ ও তার রাসুলের অবাধ্যতার কারণে শাস্তিযোগ্য।
মদ পান করা থেকে বিরত থাকতে ও মাতাল হওয়া এবং উচ্ছৃঙ্খলা না করার বিষয়ে আসমানি গ্রন্থ ইঞ্জিল শরিফেও একাধিকবার কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে-১০ সিপারা, ৫:৮। বাইবেলের পুরাতন নিয়মের যাত্রা পুস্তকের দ্বাদশ অধ্যায় এবং হিতোপদেশের ২০, ২১, ২৩ এবং ৩১ অধ্যায়ে মাদকের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে বহু বাণীর উল্লেখ আছে। বাইবেলে বলা হয়েছে, মদ গ্রহণ বুদ্ধি নষ্ট করে। সুতরাং উহা বর্জন করো। এ সকল তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রাচীনকালেও মাদকের ব্যবহার ছিল। সনাতন ধর্মেও নেশা বা মাদক গ্রহণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের পঞ্চশীলের প্রথমটিই হলো মদ থেকে বিরত থাকা।
‘অ্যালকোহল’ অর্থ স্পিরিট এবং যে কোন ধরনের মদ, ওয়াইন, বিয়ার বা ০.৫% (দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অধিক তরল পদার্থ। ‘বিয়ার’ অর্থ মল্ট, হপস সহযোগে ব্রিউয়িং পদ্ধতিতে ব্রিউয়ারিতে প্রস্তুতকৃত অনূন্য ৫% বা অনুর্ধ্ব ৮.৫% (ভলিয়ুম) অ্যালকোহল যুক্ত যে কোন পানীয়।
বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের মধে আফিম হলো অন্যতম। পপি গাছ থেকে এটি তৈরি হয়। এই গাছটি একটি মাদকদ্রব্যের গাছ। ফল যখন পরিপক্ক হয়, তখন ব্লেড দিয়ে ফলের গাছে গভীর করে আঁচড় দেয়া হয়। ৫/৬ ঘণ্টা পর এর ফল থেকে কষ বের হয় এবং চাষীরা তা সংগ্রহ করে। এটাই হল আফিমের কাঁচামাল। এর পর বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপজাত জৈব রাসায়নিক দ্রব্য বানানো হয়। এটি খেলে নিদ্রা এবং তন্দ্রা বৃদ্ধি পায়। পপি গাছ থেকে উৎপন্ন হয় বলে এটি পপি নামেও সমধিক পরিচিত। পপি গাছের আঠা ও বীজ থেকে ২০টিরও বেশি মাদক দ্রব্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে অন্যতম হলো ১. মরফিন, ২. কোডিন, ৩. হেরোইন, ৪. বুপ্রনরফাইন, ৫. থিবাইল, ৬. নোজকাপাইন, ৭. নারকোটিন, ৮. প্যাপাভারিন। এর প্রত্যেকটির আসক্তি প্রবল। আফিম থেকে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা মৃত্যুকে অবধারিতভাবে ডেকে আনে। পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ আফিম উৎপাদনকারী দেশ হল মিয়ানমার। এছাড়া থাইল্যান্ড ও লাওসের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্ত এলাকায় আফিস উৎপাদন হয়।
মরফিন প্রবলভাবে কার্যকর। এটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত অ্যালকালয়েড জাতীয় পদার্থ যা অপিয়াম, পপি নামক উদ্ভিদের অপরিপক্ক বীজের আঠালো রস থেকে আহরণ করা হয়। ১৮০৫ সালে জার্মান ফার্মাসিস্ট ফ্রিডরিখ সার্টারনার সর্বপ্রথম অপিয়াম থেকে মরফিন পৃথক করেন এবং এর নামকরণ গ্রিক স্বপ্ন দেবতা মরফিয়াস এর নাম অনুসারে মরফিন রাখেন যা প্রচ- আসক্তিকারক। এটা মানসিক ও শারীরিক উভয় ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি করে। মরফিনে আসক্তরা মারাত্মক ধরনের অবসাদগ্রস্ততা, বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা, স্মৃতি বিচ্যুতি, মতিভ্রমে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ফলে ক্রমেই তারা মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায়।
হেরোইন (ডাইঅ্যাসিটাইল মরফিন অথবা মরফিন ডাইঅ্যাসিটেট (আইএনএন) বা ডায়ামরফিন (বিএনএন) এবং লোকমুখে পরিচিত এইচ, ডোপ, ¯œ্যাক, টার ইত্যাদি) হলো একটি ওপিওয়েড ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ। তবে মাদক দ্রব্য হিসেবেই এই ওষুধের কদর বেশি। ১৮৭৪ সি.আর এডলার রাইট আফিম গাছে প্রাপ্ত মরফিনের দু’টি অ্যাসিটাইলমূলক যোগ করে একটি সংশ্লেষণ করেন। রাসায়নিকভাবে এটি মরফিনের ৩.৬ ডাইঅ্যাসিটাইল এস্টার। এটি মরফিনের প্রাক ওষুধ। ১৮৭৪ সালে  মরফিন থেকে সর্বপ্রথম সীমিত আকারে হেরোইন উৎপাদন শুরু হয়। ১৮৯৮ সালে জার্মানি বায়ার কোম্পানি বাণিজ্যিক ভাবে হেরোইন উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে একটি মারাত্মক এবং ভয়ঙ্কর মাদক দ্রব্য হিসেবে গণ্য। হিরোইন সেবনকারীরা ক্রমেই মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায়। ১৯৮৩-৮৪ সালের আগে আমাদের দেশের কেউ হেরোইন চিনতো না। অথচ ব্যাপকভাবে হেরোইন চোরাচালান বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের তার বাজারজাতকরণের ফলে ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশে হিরোইনসেবির সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং ১৯৮৭-৯১ সাল পর্যন্ত তরুণ ছাত্র সমাজের মধ্যে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা সৃষ্টি হয়।
কোকেন হলো সাদা দানাদার মাদক। এটি গুড়া আকারেও পাওয়া যায়। এরিথ্রিক্সিলিন কোকা উদ্ভিদের পাতা ও বীজ থেকে কোকেন তৈরি হয়ে থাকে। ১৬ শ শতাব্দীতে ইউরোপে কোকা পাতার আবির্ভাব। এর থেকে এটি বিস্তৃতি লাভ করে। ১৯৬১ সালে জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত কনভেনশন চিকিৎসা ছাড়া কোকেন উৎপাদন বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত করলেও এর উৎপাদন ও ব্যবহার ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। পেরু, বলিভিয়া, কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার পার্বত্য অঞ্চলে এবং এশিয়ার শ্রীলংকা, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া, কোকা গাছের চাষ হয়। কোকেন আসক্তদের মধ্যে নিদ্রাহীনতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে কম খাওয়া ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এটি দ্রুত মৃত্যু ডেকে আনে।
পৌরানিক যুগ থেকে গাঁজার ব্যবহার হয়ে আসছে বলে জানা যায়। গাঁজার গাছ ১৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। প্রাচীন কালে চিন, ইরান, তুরস্ক, মিশর, রোম, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে গাঁজার ব্যবহার ছিল। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মেক্সিকো ও ভারতে প্রচুর পরিমাণে গাঁজা উৎপন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায় সীমিত আকারে গাঁজা চাষ হলেও ১৯৮৯ সালে এর চাষ, সরবরাহ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গাঁজা গাছের উপরি অংশের ফুল ও পাতা শুকিয়ে মারিজুয়ানা তৈরি করা হয়। পাতা থেকে নির্যাস বের করে তৈরি করা হয় হাসিস। গাঁজার ব্যবহারে ফুসফুস এবং হৃদপি-ের প্রচুর ক্ষতি হয়। হাসিস আর মারিজুয়ানায় আসক্ত হলে প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে আসক্তরা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। চলবে-