মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড় বাতসিরাইয়ে ২১ মৃত্যু

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২২, ৩:১১ অপরাহ্ণ

মানানজারিতে ঘূর্ণিঝড় বাতসিরাইয়ের তাণ্ডবের পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

সোনার দেশ ডেস্ক :


ঘূর্ণিঝড় বাতসিরাইয়ের তাণ্ডবে ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মাদাগাস্কারে অন্তত ২১ জন নিহত ও ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়িহারা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার রাতে দ্বীপটির দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আছড়ে পড়ার পর থেকে রোববার রাতে সরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করে, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

বাতসিরাইয়ের কারণে প্রায় পেকে ওঠা ধান, ফল ও শাকসব্জিও নষ্ট হয়েছে। এসব ফসল তোলার ঠিক আগে আগে এমন ক্ষতিতে প্রবল খরার কারণে আগে থেকেই দেশটিতে চলা খাদ্য সঙ্কট আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে জাতিসংঘের খাদ্য ত্রাণ সংস্থা সতর্ক করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি মানানজারিতে বহু ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু বাড়ির দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে থাকলেও ছাদ উড়ে গেছে। চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ও উপরে পড়া, ভেঙে যাওয়া গাছপালা পড়ে আছে।
সোমবার শহরটির বাসিন্দারা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি থেকে ভেজা পোশাক ও অন্যান্য যা কিছু উদ্ধার করা যায় সেসব সংগ্রহ করছিল।

নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি থেকে কাপড় সংগ্রহরত স্থানীয় বাসিন্দা সেজি কাজি বলেন, “আমাদের বাড়িটিতে ফাটল দেখা দেওয়া আমরা বের হয়ে গিয়েছিলাম, হঠাৎ করেই এটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে।”

তিনি জানান, তিনি ও তার প্রতিবেশীরা একটি স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন যেটিকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু ঝড়ে ভবনটির ছাদ উড়ে যায়, ফলে তারা খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

“আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। সব ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। নদী ও সাগরের পানি বেড়ে গেছে, সব ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি।”

দেশটির দুর্যোগ প্রশমণ সংস্থা জানিয়েছে, ১৪ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বা ৭০ হাজারের বেশি মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আছে আর বাকি ৮ হাজার হয় খোলা আকাশের নিচে অথবা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আছে।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আনা নামের আরেকটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় প্রায় ৩ কোটি বাসিন্দারা মাদাগাস্কারে আঘাত হেনেছিল। আনার তাণ্ডবে দেশটিতে ৫৫ জন নিহত ও প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

ওই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বীপটির আরেকটি অংশে বাতসিরাই আঘাত হানায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বয়ে আসা প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেওয়ায় বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।- বিডিনিউজ