মাদার বখশ এর মৃত্যুদিবস আজ

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষের পরম শ্রদ্ধেয় প্রাণপ্রিয় মানুষ, শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে অন্যতম অগ্রদূত, দেশনন্দিত সমাজসেবক, জননেতা মাদার বখ্শ দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৬৭ সালের ২০ জানুয়ারি (৬ মাঘ ১৩৭৩) শুক্রবার বিকেল ৩টায় মৃত্যুবরণ করেন। পশ্চাতে কর্মকীর্তিময় মহিমার রথ রেখে তিনি চলে গেছেন। এখন তাঁর সেই সৃষ্টিশীল কর্ম ও অবদানের জন্যই আজ আমাদের মাঝে তিনি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন এবং থাকবেনও অনন্তকাল।
মাদার বখ্শ্ ১৯০৭ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালিন রাজশাহী জেলার নাটোর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) সিংড়া থানার  স্থাপনদিঘি নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২২ সালে সিংড়ার চৌগ্রাম উচচ ইংরেজি বিদ্যালয় হতে প্রথম শ্রেণিতে ম্যাট্রিক, রাজশাহী কলেজ হতে ১৯২৪  সালে আই.এ, ও ১৯২৬ সালে বি.এ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯২৮ সালে ইতিহাসে এম.এ এবং কলকাতা রিপন কলেজ হতে ১৯২৯ সালে বি.এল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি নওগাঁ জেলার পোরশার হাই মাদ্রাসায় এবং মুর্শিদাবাদের সালার উচচ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। দুই বছর শিক্ষকতার পর তিনি ১৯৩৪ সালে রাজশাহী জজকোর্টে আইন ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। অল্পদিনের মধ্যে তিনি এই পেশায় প্রচুর খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন। শহরের আদালত পাড়ায় আগত গ্রামের নিরক্ষর সাধারণ মানুষের বড় আপনজন ছিলেন তিনি। বেশ কিছু সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খ-কালিন অধ্যাপনাও করেন।
অত্যন্ত মেধাবী ও তুখোড় মাদার বখ্শ্ ছাত্রাবস্থা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সত্য, ন্যায় ও সুন্দর জীবন গড়বার স্বপক্ষে তিনি সংগ্রাম করেছেন। তিনি নিজের জীবনেও সেই স্বপ্ন লালন ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই জীবনের প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা নিয়ে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা অবসানের লক্ষ্যে তাদের আত্মচেতনায় বলীয়ান হওয়ার অনুপ্রেরণদাতা হিসেবে তিনি মুসলিম লীগে যোগদান করেন। সেই সময়ে রাজশাহী শহরে মুসলমানদের মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হাজী লাল মোহাম্মদ সরদার (১৮৪৮-১৯৩৬) এবং প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও আইনজীবী খান বাহাদুর এমাদ উদ্দিনের (১৮৭৫-১৯৩৩) মৃত্যুবরণের পর রাজশাহীর মুসলিম সমাজ আরেকজন তেজস্বী সিংহপুরুষ মাদার বখ্শ্কে (১৯০৭-১৯৬৭) রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে পেয়ে আনন্দে উল্লসিত হন এবং মুসলিম যুব সমাজে নবজোয়ারের সঞ্চার হয়। পরবর্তীকালে তিনি রাজশাহীতে মুসলিম লীগের নীতি নির্ধারক (চড়ষরপু গধশবৎ) হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর উদার ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কুখ্যাত ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশান ডে‘তে রাজশাহীতে রক্তক্ষয়ী কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি।
তিনি ১৯৪৬ সালে আত্রাই, বাগমারা ও মান্দা থানার নির্বাচনী এলাকা থেকে বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন পাকিস্তান আইন সভার সদস্য ছিলেন। সেই সময় উত্তরাঞ্চলের জনগণের প্রতি সরকারের বিমাতাসুলভ ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠনের আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি, যার ফলস্বরূপ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্মতিদানে তিনি সরকারকে একরূপ বাধ্য করেছিলেন।