মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: মে ২১, ২০২২, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল ভবনে দৃশ্যমান স্থানে নাম ও ঠিকানাসহ বাংলা ভাষায় সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। ১৮ মে অধিদফতরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমীনের সই করা অফিস আদেশ জারি করা হয়।
ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকনির্দেশক বা সাইনবোর্ড দৃশ্যমান স্থানে থাকলেও বেশিরভাগ মাদ্রাসার ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে। উপরন্তু, দৃশ্যমান স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে মাদ্রাসার প্রচার ও পরিচিতির জন্য সহায়ক হয়।
নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সব কামিল, ফাজিল, আলিম, দাখিল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসার মূল ভবন ও প্রবেশপথে নাম- ঠিকানা সংবলিত সাইনবোর্ড এবং বড় রাস্তার পাশে কিংবা দৃশ্যমান স্থানে দিকনির্দেশক চিহ্নসহ বাংলায় মাদ্রাসার নাম-ঠিকানা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে।
কেন এমনটি করা হয় না? মাদ্রাসার নাম-ঠিকানা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করাই তো সঙ্গত! যে কোনো ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থান-এলাকার পরিচয় তুলে ধরে। তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যক্তি, বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেতেও সহায়ক হয়। এতে করে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনগুরুত্ব বাড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিও বাড়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটাই তো কাম্য হওয়া উচিৎ। কিন্তু সেটা হবে না কেন? এর মধ্যে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করে? যে সব মাদ্রাসা দৃশ্যমান স্থানে সাইন বোর্ড ও নির্দেশক ব্যবহার করে না- তারা তাদের মাদ্রাসার পরিচয় চান না? তা হলে কি লোকদের দৃষ্টির আড়ালেই রাখতে চায়? এটা নিশ্চয় সুস্থবোধের পরিচায়ক নয়। নতুবা জনমনে সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক যে, ওই মাদ্রাসার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে- যে কারণে তারা মাদ্রাসাকে লোক-সামনে দৃশ্যমান করতে চায় না। এ ছাড়া আর অন্য কী উপায় থাকতে পারে? মাদ্রাসার পরিচিত তুলে ধরাটাও পরোক্ষ জনসম্পৃক্ততায় ভূমিকা রাখে। আর জনসম্পৃক্ততা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নকেই ত্বরান্বিত করে।
তবে আদেশ জারির মধ্যে যাতে বিষয়টি থেমে না থাকে। আদেশের প্রয়োগ অর্থাৎ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ