মানবপাচার চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেফতার হোটেলভিত্তিক যৌন ব্যবসা নয়তো?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীতে সাত নারীসহ মানবপাচার চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫। শুক্রবার (১৭ সেপ্টম্বর) সকালে এই ঘটনায় নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির ‘হোটেল ওয়েলকাম’ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় বিভিন্ন গর্ভ-নিরোধক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ধৃত ব্যক্তিরা রাজশাহী মহানগরী, রাজশাহীর পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা এবং নীলফামারী জেলার বাসিন্দা। তবে ধৃত নারীদের কোনো পরিচয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় নি। কিন্তু ধৃতদের কাছ থেকে অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে জন্মনিরোধ সামগ্রী বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক কনডম উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-৫ কর্তৃক প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ধৃতদের মানবপাচারকারী উল্লেখ করার সাথে নারীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের কথাও উল্লেখ আছে।
ঘটনা পর্যালোচনায় নারীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির বিষয়টি বেশি স্পষ্ট হয়। বিপুল পরিমাণ কনডম জব্দ করার বিষয়টি সেই সাক্ষ্যই দেয়। নির্ভেজাল মানবপাচার হলে ওই পরিমাণ কনডম থাকার কথা নয়। র‌্যাব- ৫ এর অভিযানে হোটেল ওয়েলকাম-এর কোনো কর্মি গ্রেফতার হয়নি। কিংবা তাদের কোনো বক্তব্যও উল্লিখিত হয়নি। হোটেলের কর্মকর্তা বা কর্মি এর সাথে জড়িত আছে কিনা সেটাও উল্লেখ করা হয় নি।
অপর এক অভিযানে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার বিকেলে নগরীর আশ্রয় আবাসিক হোটেল থেকে নারী-পুরুষসহ ৬ জনকে আটক করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- নারীর আর্থিক অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রস্তাব ও বাধ্য করা। জনৈক নারীকে ওই হোটেলে ‘রিসিপশনিস্ট’ পদে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ওই হোটেলেই যেতে বলা হয়েছিল। ওই নারী সেখানে গেলে তাকে যৌনকাজে বাধ্য করা হচ্ছিল। এ ক্ষেত্রেও ওই হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো যোগসাজস আছে কিনা সেটা পরিষ্কার নয়।
রাজশাহী মহানগরীতে আবাসিক হোটেলভিত্তিক যৌন ব্যবসা নতুন কিছু নয়। তবে মাঝে বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু উল্লিখিত দুটি ঘটনা আবাসিক হোটেলভিত্তিক যৌন ব্যবসার সন্দেহ সামনে এনেছে। করোনাকালের নিরব অস্থিরতায় যৌন ব্যবসার বাড়-বাড়ন্ত অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এ ব্যাপারে পুলিশি উদ্যোগ খুবই প্রত্যাশিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ