মানবাধিকারের সুরক্ষা, উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল || প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক সভায় বক্তারা

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আলোচকগণ বলেছেন, মানবাধিকারের সুরক্ষা, উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। এটা না হলে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনা টেবিলেই থেকে যাবে।
স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা ব্রতীর উদ্যোগে ইউকে এইড এর অর্থায়নে কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস প্রোগামের সহায়তায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল শনিবার নগরীর এসকে ফুড ওয়ার্ল্ড চইনিজ রেস্টুরেন্টের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, ব্রতীর আইনি সেবা প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শশাঙ্ক বরণ রায়।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহ্মদ আলী, রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুস সাদাৎ, দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, সমাজসেবা অধিদফতর রাজশাহীর উপ-পরিচালক রুবিনা ইয়াসমীন, সচেতন নাগরিক কমিটি রাজশাহীর সাবেক সহ-সভাপতি মনিরা রহমান মিঠি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভানেত্রী কল্পনা রায় প্রমুখ।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকারের বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারী, আদিবাসী, তৃতীয় লিঙ্গের জনগণ, যৌনকর্মী, অতিদরিদ্ররাই প্রান্তিক এবং এরাই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়।
বক্তারা আরো বলেন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা গেলে সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ দেশ ও জাতি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ^ দরবারে স্থান পাবে। আইনের প্রয়োগিক ধারাকে অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারীদের উন্নত পেশাদারিত্ব মানবাধিকার পরিস্থিতিকে সমুন্নত রাখতে পারে। সমস্যার অজুহাত দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। অপরাধের প্রতিটি ঘটনার নির্মোহ বিশ্লেষণও দরকার। নতুবা তৃতীয় পক্ষ এর সুযোগ নিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের জবাবদিহিতার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ তথা এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি এবং আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা ব্রতী’র প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা, উপস্থিত আলোচকবৃন্দ এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দের আলোচনায় এ সকল বিষয় উঠে আসে।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, অ্যাডভোকেট শাহিনুল হক মুন, অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌহিদী জাহেদী, রাজশাহী থিয়েটার সভাপতি কামারুল্লাহ সরকার, মোহনা, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহতারেমা আশরাফী খানম, কোর্ট ইন্সপেক্টর কামরুন নাহার, আদিবাসী নেতা সুভাষচন্দ্র হেমব্রম প্রমূখ।
ব্রতীর ট্রেনিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন কোঅর্ডিনেটর রাজেন্দ্র কুমার দাসের সঞ্চালনায় ব্রতী ও প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরেন, রিজিওনাল এন্ড লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশিক ইকবাল। ব্রতীর পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর সালমা খাতুন, লিগ্যাল অফিসার মিনা আফরোজ এবং রাসকিং মানকিন।