মানব পাচারে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন : জেলা প্রশাসক

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০২২, ১১:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ হতে পারে মানব পাচারে ক্ষতিগ্রস্তদের পারিবারিক ও সামাজিক একীকরণের সর্বোত্তম উপায়। এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দুঃখ-দুর্দশা, দুর্ভোগ ও দুর্বলতা কমিয়ে তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা তাদের আশেপাশের মানুষদের দ্বারা দমন ও নিপীড়নের শিকার হয়। তাই পারিবারিক ও সামাজিক একীকরণে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘রাজশাহীর জেলা রেফারেল সার্ভিসেস ডিরেক্টরি পর্যালোচনা করণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেছেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জাতিকে মানব পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ পুনর্বাসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের এগিয়ে আসা উচিত এবং সরকারের প্রচেষ্টাকে পরিপূরক করতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

সচেতন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শাহানা আক্তার জাহান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবিহা সুলতানা, সহকারী কমিশনার আঞ্জুমান সুলতানা, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার তানজিজ আলম তাবাসসুম, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ও দৈনিক সোনার দেশ সম্পাদক আকবরুল হাসান মিল্লাত। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উন্নয়ন কর্মীরা।

মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা, ভুক্তভোগীদের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেবামুখি কার্যক্রমকে কীভাবে উপযুক্ত করা যায় সে বিষয়ে সুপারিশ পেশ করেন। জেলা ডিরেক্টরির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে গুণগত পরিষেবাগুলি নিশ্চিত করার জন্য তারা একটি সময়-উপযুক্ত কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সচেতন সোসাইটি বাংলাদেশ ফাইট স্লেভারি অ্যান্ড ট্রাফিকিং-ইন-পার্সন অ্যাক্টিভিটি প্রজেক্টের সহযোগিতায় ‘সারভাইভার সার্ভিস প্রোভাইডারদের ডিরেক্টরি: রাজশাহী ডিস্ট্রিক্ট’ উদ্বোধন উপলক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ইউএসএআইডি এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এই প্রকল্পে সহায়তা করেছে।