মান্দায় ওষুধ ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে দোকান বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগিরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪, ৮:২৬ অপরাহ্ণ


মান্দা প্রতিনিধি:নওগাঁর মান্দায় দোকানঘরে হামলা চালিয়ে মাহবুব আলী শাহিন (৫৫) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪:৩০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওষুধ ব্যবসায়ী মাহবুব আলম শাহিন উপজেলা কামারকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে হামলাকারীরা হলেন কামারকুড়ি গ্রামের মতিউর রহমান ও সামসুন্নাহার এবং চকভোলাই গ্রামের শাহ আলম ও রাব্বী।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে প্রসাদপুর বাজারের সব ওষুধের দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পরে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কেমিস্ট এণ্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) মান্দা শাখার উদ্যোগে প্রসাদপুর বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে হঠাৎ করেই ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন রোগি ও তাঁদের স্বজনেরা। রোগি সালেহা বিবি বলেন, বাচ্চাকে ডাক্তার দেখিয়ে হাসপাতালে মোড়ে ওষুধ নিতে এসে দেখি সব দোকান বন্ধ। এসময় জানতে পারি ওষুধ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাচ্চার ওষুধ কিনতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছি।’

ভুক্তভোগী মাহবুব আলম শাহিন বলেন, প্রত্যেক শুক্রবার রাজশাহী থেকে ১০ থেকে ১২ জন চিকিৎসক হাসপাতাল মোড়ে বিভিন্ন চেম্বারে রোগি দেখেন। দিনভর প্রচুর বেচাকেনা হয়। এ কারণে আমি দোকানেই ছিলাম। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ করেই দোকানে মতিউর রহমানের নেতৃত্বে রাব্বী, শাহ আলম ও সামসুন্নাহার প্রবেশ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় আমাকে মারধরসহ টেনে হিঁচড়ে দোকানঘর থেকে বের করে হামলাকারীরা। পরে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বিউটি-সীমা প্যাথলজির সামনে আশপাশের লোকজন ব্যবসায়ীরা আমাকে উদ্ধার করেন।’

বাংলাদেশ কেমিস্ট এণ্ড ড্রাগিস্ট সমিতি মান্দা শাখার সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ী শাহিনকে মারধরের প্রতিবাদে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রসাদপুর বাজারের সব ওষুধ ফার্মেসি দোকান আজ রাত ৮টার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Exit mobile version