মান্দার কশব উচ্চবিদ্যালয়ে রাতে কর্মচারীদের যোগদানের চেষ্টা,ওসির সামনে লাঞ্ছিত গ্রামপুলিশ

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২২, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি :


নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব উচ্চবিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগকৃত কর্মচারীদের রাতের অন্ধকারে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানির পর চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকশ নারী-পুরুষ বিদ্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এসময় গ্রামপুলিশ খয়রুল ইসলাম মন্ডলকে (খয়ের) মারধর করেন উত্তেজিত জনতা। পরে তাকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান সেখানে উপস্থিতি ছিলেন।

জানতে চাইলে মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বলেন, কশব ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা ম-প পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যার পর কশব উচ্চবিদ্যালয়ে যান। আগে থেকে সেখানে এলাকার অনেক নারী-পুরুষের জটলা ছিল। তাঁরা সদ্য অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা গ্রামপুলিশ খয়েরকে মারধর করেন। রাতে ওই বিদ্যালয়ে কেন গিয়েছিলেন জানতে চাইলে ওসি শাহিনুর রহমান প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, কশব উচ্চবিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, নিরাপত্ত কর্মী, নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ২৬ আগস্ট ওইসব পদে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার চুক্তিতে মহান আলী সরকারের কাছ থেকে ১২ লাখ ৮২ হাজার টাকা, জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ১৭ লাখ, মিন্টু হোসেনের কাছ থেকে ৮ লাখ, মিলন হোসেনের কাছ থেকে ১৩ লাখ ও হোসনে আরার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

চাকরি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়ার চুক্তিতে ১৭ লাখ টাকা নেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। পরে গোপনে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক আমার পদে কামরুজ্জামান তোতা নামে আরেক প্রার্থীর কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেন। আমি এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি করছি।’
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, হোসনে আরার বিপরীতে আসমা খাতুনের কাছ থেকে ১৩ লাখ, মহান আলী সরকারের বিপরীতে পারভেজ হোসেন পলুর কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা নিয়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এলাকার লোকজন শুরু থেকে ওই ৩ পদে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, রোববার সন্ধ্যার পরে বিদ্যালয় চত্বরে বিশৃঙ্খলা ও হইচই হচ্ছে এমন সংবাদে আমি সেখানে যাই। বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি রাতের অন্ধকারে সদ্য নিয়োগকৃতদের যোগদানের চেষ্টা করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন। এসময় মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওসির উপস্থিতিতে লোকজন নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা গ্রামপুলিশ খয়ের আলীকে লাঞ্ছিত করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন বলেন, বিধিগতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো বাণিজ্য করা হয়নি। স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়োগ নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। তাই পুলিশ ডেকে যোগদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ফজলুর রহমান নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ