মান্দার ভারশোঁ ইউপির গ্রাম আদালতে পাঁচ মাসে শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

মান্দায় গ্রাম আদালত

মান্দা প্রতিনিধি:


করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেও গত ৫ মাসে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এতে হয়রানি ও অর্থ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক পরিবার।

পারিবারিক বিরোধ, প্রতিবেশিদের সঙ্গে ছোটখাটো বিরোধ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রাম আদালতে এসব মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে ৩ মাস গ্রাম আদালত পরিচালনা কিংবা মামলা গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু লোকজনের ভোগান্তি কমাতে ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছু কিছু মামলা গ্রহণ করা হয়। এরপরও শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

ভারশোঁ গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয় নিয়ে প্রতিবেশি আবু হোসেেেনর বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে মামলা করেছিলেন। কয়েকদফা শুনানি শেষে উভয়ের মধ্যে বিরোধটি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ে উভয়পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা কিংবা আদালতে মামলা করলে এত তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হতো না। দিনের পর দিন ঘোরাঘুরি করা লাগত আদালতের বারান্দায়। একই সঙ্গে অর্থও ব্যয় হতো। কিন্তু গ্রাম আদালতে মামলা করায় হয়রানি ও অর্থ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তাঁদের দুই পরিবার। এখন তাঁদের মধ্যে আগের মতোই সুসম্পর্ক রয়েছে।

পাতা ঝাড়ু দেওয়াকে কেন্দ্র করে বালিচ গ্রামের গৃহবধূ জহুরা বেগম সঙ্গে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাঁর নাক কামড় দিয়ে কেটে দেন প্রতিবেশি গৃহবধূ পিয়ারা বিবি। এ নিয়ে গ্রাম আদালতে মামলা করেন জহুরা বেগম। শুনানি শেষে চিকিৎসা খরচের ৭ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

পরিষদের সচিব প্রদীপ কুমার মন্ডল বলেন, রেকর্ডভুক্ত ছাড়াও আরো অনেক অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এলাকার মাতবরদের সহযোগিতায় নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারগুলো হয়রানি ও অর্থ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন জানান, করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেও পরিষদের গ্রাম আদালতে ৫ মাসে শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নোটিশের মাধ্যমে উভয়পক্ষকে গ্রাম আদালতে হাজির করে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। অনেক মামলা এলাকা ভিত্তিক মাতবরদের দায়িত্ব দিয়ে সমঝোতা করে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু মামলায় নিষ্পত্তির উদ্যোগ ভেস্তে গেলে উভয়পক্ষকে আইনের আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান সুমন আরো বলেন, অনেক মামলার বিচারিক কাজ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেকে পরিষদের দেওয়া রায় উপেক্ষা করেন। আবার নোটিশ দেওয়ার পরও অনেকে হাজির হন না। এতে গ্রাম আদালতের মানহানি ঘটে। এজন্য গ্রাম আদালতকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ