মান্দায় আত্মগোপনে থাকা গৃহবধূ থানায় হাজির

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ৯:১৩ অপরাহ্ণ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁর মান্দায় স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে এক সপ্তাহ ধরে আত্মগোপনে থাকা এক গৃহবধূ থানায় হাজির হয়েছেন। তাঁর নিরুদ্দেশের বিষয় নিয়ে থানায় অভিযোগ হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দ্ইু শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি থানায় উপস্থিত হন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম শাহিনুর বেগম (৩০)। তিনি উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের বান্দাইপুর গ্রামের মিজানুর রহমান মিলনের স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের কুকরাইল গ্রামের মৃত ফহিম উদ্দিন সরদারের মেয়ে। স্বামীর নির্যাতনের কারলে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূ শাহিনুরের স্বামী মিলন একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। গত দুসপ্তাহ আগে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেন। এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে ছিল।

গৃহবধূ শাহিনুর বেগম বলেন, ‘গত দুসপ্তাহ আগে সামান্য বিষয় নিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়। চিকিৎসায় এখনও সুস্থ হতে পারিনি। এ অবস্থায় পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিতে দুই শিশুসন্তান নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর আত্মগোপন করি।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ তাঁকে খোঁজাখুঁজি করছে এমন সংবাদে সন্তানদের নিয়ে শুক্রবার সকালে থানায় হাজির হন। এসময় পুলিশের কাছে তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন। স্বামী মিলনের শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

গৃহবধূ শাহিনুরের ভাই ইমাজ উদ্দিন সরদার বলেন, ‘প্রায় ১৪ বছর আগে বোন শাহিনুর বেগমকে পারিবারিকভাবে মিলনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। মাদকাসক্ত হওয়ার পর থেকে বোনের ওপর নির্যাতন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তবুও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

গৃহবধূর স্বামী মিজানুর রহমান মিলন বলেন, গত রোববার তিনি শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও সন্তানদের কাউকেই পাননি। স্ত্রী-সন্তান নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় মান্দা থানায় অভিযোগ করেন। স্ত্রীকে নির্যাতনের কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, সংসারে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এগুলো হয়েই থাকে। তবে মাদক সেবনের অভিযোগটি অস্বীকার করেন তিনি।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, ‘থানায় হাজির হওয়ার পর গৃহবধূর বাবার বাড়িতে সংবাদ পাঠানো হয়েছে। গৃহবধূ চাইলে তাঁকে সবধরণের আইনি সহয়তা দেওয়া হবে।