মান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে হাসনা হেনা ওরফে সাথী (৩৮) নামে এক নারীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত সাথীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রেফার্ড করা হয়েছে। তিনি উপজেলার দোসতীনা-কালিকাপুর গ্রামের মৃত হারুন রশিদের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেলে সাথী উপজেলার ভেবড়া গ্রামে নয়ন কুমারের (দর্জি) সঙ্গে দেখা করার জন্য তার বাড়ি যাচ্ছিলেন। তাকে বহনকারী মোটরসাইকেল ভেবড়া মোড়ে পৌঁছলে কয়েকজন যুবক তাদের আটকে দিয়ে চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনকে খবর দেয়। চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পৌঁছে অতর্কিতভাবে তাকে মারপিট শুরু করে। পরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসাধীন সাথী জানান, পরিষদে নেয়ার পর চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন তার জবানবন্দি না শুনেই বাঁশের লাঠি দিয়ে আবারো পেটাতে থাকে। পরিষদের একটি কক্ষে আটক রেখে যৌনকর্মী আখ্যা দিয়ে দফায় দফায় পিটিয়ে ভেঙে দেয়া হয় তার বাম হাত। থেতলে দেয়া হয়েছে শরীরের বিভিন্ন অংশ। বিবস্ত্র অবস্থায় তার ওপর এ অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
জানতে চাইলে মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এসএম সিয়াম হাসান জানান, রোগির শরীরের থেতলে যাওয়া অংশগুলোতে রক্ত জমাট বেধেছে। ফেটে গেছে বাম হাতের হাড্ডি। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে ওই নারীকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খান। তিনি বলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক সাথীকে আটক করে মারপিট করে। সংবাদ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, বুধবার ভোরে একটি রিকশাভ্যানে সাথীকে থানায় পৌঁছে দেন চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খান। সেসময় তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। পরে ইউপি সদস্য আকতারুজ্জামান বুলবুলের জিম্মায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয় নি বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ