মান্দায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২১, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউপির মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ১১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউপির মধ্যে আটটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছিলেন।

নৌকার প্রার্থীদের বাইরে যে ১১ জন স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চারজন। বাকি সাতজনের মধ্যে চারজন বিএনপি ও তিনজন জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট পড়েছে ৭৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু ইউনিয়নে একেবারে অপরিচিত ও অযোগ্য প্রার্থীদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকার ভরাডুবি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীর কাছেই তিনি পছন্দের ছিলেন না। তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে এ ইউনিয়নে গাজীবুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই তাঁর পক্ষে কাজ করেননি। মনোনয়ন চূড়ান্তÍ হওয়ার পরেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয় অনুমেয় ছিল। ভোটের ফলাফল বেরনোর পর তার প্রমাণ মিলল।

মান্দা সদর, নুরুল্যাবাদ ও তেতুলিয়া ইউপিতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত নেতারা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া মৈনম, কাঁশোপাড়া, বিষ্ণুপুর ও ভালাইন ইউপিতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এবং প্রসাদপুর, গনেশপুর, কুশুম্বা ও কালিকাপুর ইউপিতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি নেতারা বিজয়ী হন।

দলের প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় হলেও মান্দায় আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের সমর্থন কমে গেছে এটা বলা যাবে না। এবারের ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সিলেকশনে অনেক ভুল-ত্রুটি ছিল। আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব দেখে হাইব্রিড জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন।’

জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগাভাগির কারণে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয় হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে। এসব ভুলত্রুটি চিহ্নিত ও সেগুলোর সমাধান করে আগামীতে দলকে সুসংগঠিত করতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা হলেন, ভারশোঁ ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান সুমন (আ.লীগ) পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৯ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলতাজ উদ্দিন (আ.লীগ বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৮ হাজার ৯৫৮ ভোট, ভালাইনে গোলাম মোস্তফা মন্ডল (আ.লীগ বিদ্রোহী) ৬ হাজার ৮২৪ ভোট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইব্রাহীম আলী মন্ডল (আ.লীগ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৪৪ ভোট, পরানপুরে মাহফুজুর রহমান (আ.লীগ) পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৫ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস খান (স্বতন্ত্র জামায়াত) পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪৫ ভোট, মান্দা সদর ইউনিয়নে তোফাজ্জল হোসেন (স্বতন্ত্র জামায়াত) পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৭৫ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি তোফাজ্জল হোসেন তোফা (আ.লীগ) পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৪২ ভোট, গনেশপুরে শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী (স্বতন্ত্র বিএনপি) পেয়েছেন ১০ হাজার ১৭০ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হানিফ উদ্দিন (আ.লীগ) পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯২ ভোট, মৈনমে আনিছুর রহমান (আ.লীগ বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৪৩ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইয়াছিন আলী রাজা (আ.লীগ বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৬ ভোট, প্রসাদপুরে আব্দুল মতিন মন্ডল (স্বতন্ত্র বিএনপি) পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৬৯ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোয়াজ্জেম হোসেন (স্বতন্ত্র জামায়াত) পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৬৩ ভোট, কুসুম্বাতে নওফেল আলী মন্ডল (স্বতন্ত্র বিএনপি) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৯৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরহাদ হোসেন (আ.লীগ) পেয়েছেন ১০ হাজার ১৫ ভোট, তেঁতুলিয়ায় এসএম মখলেছুর রহমান (স্বতন্ত্র জামায়াত) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৭ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আখেরুজ্জামান মোল্লা (স্বতন্ত্র বিএনপি) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭১৫ ভোট, নুরুল্লাবাদে ইয়াছিন আলী প্রামানিক (স্বতন্ত্র জামায়াত) পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৪০ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাধীন কৃষ্ণ রায় (আ.লীগ) পয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৯ ভোট, কালিকাপুরে আশরাফুল ইসলাম (স্বতন্ত্র বিএনপি) পেয়েছেন ৪ হাজার ১৯০ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল আলিম মন্ডল (আ.লীগ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৭ ভোট, কাঁশোপাড়ায় আব্দুস সালাম (আ.লীগ বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩০ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাইদুর রহমান মোল্লা (স্বতন্ত্র বিএনপি) পেয়েছেন ৫ হাজার ২৯৯ ভোট, কসবে ফজলুর রহমান (আ.লীগ) পেয়েছেন ৫ হাজার ২৬০ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (স্বতন্ত্র) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯০ ভোট, বিষ্ণুপুরে এসএম গোলাম আজম (আ.লীগ বিদ্রোহী) পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৭ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম (আ.লীগ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৯৭ ভোট।