মান্দায় ক্লিনিকে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতককে দত্তক নিলেন ব্যবসায়ী দম্পত্তি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


নওগাঁর মান্দায় ক্লিনিকে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতককে দত্তক নিয়েছেন এক ব্যবসায়ী দম্পত্তি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপাতিয়া এলাকার ওই দম্পত্তির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। জন্মের পর শিশুটির মা লাপাত্তা হওয়ায় গত ১২ দিন শিশুটি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকার পর উপজেলার দিঘাপাতিয়া এলাকার আবুল কাসেম শিকদারের ছেলে আজিজুল ইসলাম ওরফে আতিক ও তার স্ত্রী মনিরা পারভীন তাকে দত্তক নিলেন।
আতিক-মনিরা দম্পত্তি জানান, তাদের বিবাহিত জীবন চলছে ১২ বছর। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখতে পান নি। এজন্য অনেক নামি-দামি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। শুভাকাক্সিক্ষদের পরামর্শে কবিরাজি চিকিৎসাও নেয়া হয়েছে। এরপরও কাক্সিক্ষত সন্তান লাভে সব চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়েছেন। আতিক পেশায় একজন ধান-চাল ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী মনিরা পারভীন একজন গৃহিণী।
আজিজুল ইসলাম আতিক জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে মান্দার রোগমুক্তি ক্লিনিকে নবজাতককে ফেলে মা নিরুদ্দেশ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তারা শিশুটিকে দত্তক নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ কাজে সহায়তার জন্য তারা মান্দা থানায় কর্মরত একজন উপপরিদর্শকের শরণাপন্ন হন। তার মধ্যস্থতায় শিশুটিকে দত্তক নিতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আতিকের স্ত্রী মনিরা পারভীন শিশুটিকে মাতৃ¯্নেেহ লালন-পালন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। এজন্য সকলের নিকট তিনি দোয়া কামনা করেছেন ।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রোগমুক্তি ক্লিনিকে বিথী (২০) নামে অন্তসত্তা এক নারী ভর্তি হন। রাত ৩টার দিকে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে ক্লিনিকে ফেলে লাপাত্তা হন ওই নারী। সেই থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ছিল শিশুটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ