মান্দায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২২, ১:৩৯ অপরাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি :


নওগাঁর মান্দায় শয়নঘর থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ইটাখোর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম মুক্তা খাতুন (২১)। তিনি ইটাখোর গ্রামের রনি হোসেনের স্ত্রী ও এক মেয়ে সন্তানের জননী। মুক্তা খাতুন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ঈশ্বর ল²ীপুর গ্রামের মাবুদ হোসেনের মেয়ে। ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী রনি হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পেশায় তিনি ট্রাক্টরের চালক।

নিহত মুক্তা খাতুনের মা রোকেয়া বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে মেয়ে মুক্তাকে ইটাখোর গ্রামের ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে রনির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। মেয়ের সুখের কথা ভেবে বিয়ের সময় ও পরে দু’দফায় জামাই রনিকে এক লাখ টাকা যৌতুক দেন। এরপরও বিভিন্ন সময় মেয়েকে নির্যাতন করে আসছিল জামাই ও তাঁর পরিবারের লোকজন।

রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে মেয়ে মুক্তাকে রোববার কয়েকদফা নির্যাতন করা হয়। এসব নির্যাতন সইতে না পেরে মুক্তা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

গৃহবধূর শাশুড়ি সাজেদা বেগম বলেন, রোববার সকাল থেকে ছেলে রনির সঙ্গে পুত্রবধূর ঝামেলা চলছিল। দুপুরের দিকে ছেলে রনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় সন্ধ্যালগ্নে পুত্রবধূ মুক্তা ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

ঘটনায় নিহত মুক্তা খাতুনের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে জামাই রনি হোসেন ও তাঁর মা সাজেদা বেগমের বিরুদ্ধে রোরবার রাতে মান্দা থানায় মামলা করেন।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, গৃহবধূ মুক্তা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় নিহতের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি রনিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ