মান্দায় তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা ধান

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

জিল্লুর রহমান, মান্দা



গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে নওগাঁর মান্দায় তলিয়ে গেছে অন্তত ৫ হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান। কেটে নেওয়ার আগ মুহুর্তে ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছে হাহাকার। কেউ কেউ আবার অর্ধেক ভাগে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। এরপরও মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। অনেকে নারী শ্রমিক দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন ধান কাটার কাজ। দুর্যোগ মুহূর্তে শ্রমিক না পেয়ে কৃষকরা হা-হুতাশ করছেন।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে উপজেলার হাটোইর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরা তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। এ গ্রামের অধিকাংশ কৃষক চলতি মওসুমে ছাতড়া বিলে তাদের একমাত্র ফসল বোরো ধান রোপণ করেছিলেন। কৃষক আজাহার আলী, সাইফুল ইসলাম, আসাদুল ইসলামসহ আরো অনেকে জানান, গত বৃহস্পতিবার হতে শনিবার পর্যন্ত একটানা বৃষ্টির পানি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পুঙ্গির খাড়ি হয়ে ছাতড়া বিলে এসে পড়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই হঠাৎ বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তলিয়ে যায় মাঠের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান।
এদিকে ছাতড়া বিলের পানি কালীতলা হয়ে শিবনদে পড়ছে। পানিতে উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের গাংতা, চুকাইনগর মহেশপুর, মনোহরপুর পরানপুর ইউনিয়নের হাটোরই ও পরানপুর, ঠাকুরমান্দা বিলের কোঁচড়া, দেউল, দুর্গাপুর, হাড়কিশোর ও রাধানগর এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কুরকুচি, ও শ্যাল্লা বিলের ধান তলিয়ে গেছে। এসব বিলের জেগে থাকা ধানগুলো কাটা জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অল্প জেগে থাকা ধান নিয়েও কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নিয়ামতপুর উপজেলার তিলিহারী গ্রাম থেকে চারজন আদিবাসী নারী এসেছেন ছাতড়া বিলে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে। এরা হলেন, হিমালী রানী দাস, কাঞ্চন মালা, শান্তি রানী দাস ও ফুলমতি রানী। দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরি ও দুই বেলা খাবার চুক্তিতে তারা এ কাজ করতে এসেছেন। হাটোইর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আবুল কাসেম জানান, অর্ধেক চুক্তিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন তারা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সারা বছর খাবারের চিন্তায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
উপজেলার গাংতা গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, পরানপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, দেউল গ্রামের ওমর আলী, কোঁচড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ সোনাসহ আরো অনেকে জানান, এ বছর বোরো ধানের চাষ করতে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে তাদের ঋণ নিতে হয়েছে। এছাড়া বাঁকিতে কিনেছেন সার ও কীটনাশক। শেষ মুহূর্তে এসে ফসল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার  ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নাম ও জমির পরিমান সংগ্রহ করছেন। ইতোমধ্যে ৩শ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ জমির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে পুরো তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে সুত্রটি জানায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুজ্জামান জানান, দুর্গত এলাকা পরিদর্শনসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ