মান্দায় দেবোত্তর সম্পত্তিতে নির্মিত বাড়িতে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ঝুলে থাকা তারে জড়িয়ে প্রাণ গেল এক গৃহবধূ

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি



নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাকুড়িয়া শহীদ বাজারে শিবকালী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই বাড়িতে অন্তত ২০০ মিটার দূরের একটি মুদিদোকান থেকে লুজতারের মাধ্যমে গাছ ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নেয়া হয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। সেই অবৈধ সংযোগের ঝুলে থাকা তারে জড়িয়ে মৃত্যুবরণ করেন জয়গুন বিবি (৩৫) নামে এক গৃহবধূ। গত ১৪ মার্চ রাতের ওই ঘটনার পর মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ পাকুড়িয়া শহীদ বাজার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অবৈধ সংযোগ প্রদান ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যায় সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ।
মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মিলন কুমার কুন্ডু জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া এ ঘটনায় তাদের আর কিছুই করার নেই। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একইভাবে দায় এড়িয়ে গেছেন থানা পুলিশও। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান দাবি করেন, ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি উদ্ধারসহ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পাকুড়িয়া মৌজার এক নম্বর খতিয়ানভূক্ত ৮৬৯ নম্বর দাগের ৪ শতক দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখল করে পাকা বসতবাড়ি নির্মাণ করেন স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল গফুর ওরফে আব্দুল গফুর কাগজি। প্রায় তিন মাস আগে মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজনকে ম্যানেজ করে শহীদ বাজারের মুদি দোকানি আবুল কালামের নিকট থেকে বাড়িতে সংযোগ নেন। বাঁশের খুঁটি ও গাছ ব্যবহার করে লুজতারে এ সংযোগ নেয়া হয়। অবৈধ এ সংযোগের ঝুলে থাকা তারে জড়িয়ে প্রতিবেশি গৃহবধূ জয়গুন বিবির মৃত্যু ঘটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, জয়গুন বিবির মৃত্যুর পর প্রভাবশালী আব্দুল গফুর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অপতৎপরতা শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের ম্যানেজ করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয় গৃহবধূ মরদেহ।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, শিবকালী মন্দিরের সম্পত্তি জবরদখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের সময় তা বন্ধের দাবি জানিয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার সরকার ও সদস্য অবিনাশ চন্দ্র সরকার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে ওই সম্পত্তি মন্দিরের হওয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য আব্দুল গফুরকে নির্দেশ দেন তৎকালিন উপজেলা সহাকরী কমিশনার (ভূমি) সাদেকুর রহমান।
এভাবে কয়েক দফা নোটিশ দেয়া সত্বেও স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি দখলকারী আব্দুল গফুর। পরে স্থাপনাটি উচ্ছেদের জন্য তদন্ত রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর নিকট প্রেরণ করা হয়। ওই দফতর থেকেও উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয় দখলকারীর নামে।
উচ্ছেদ নোটিশ উপেক্ষা করে প্রভাবশালী আব্দুল গফুর দেবোত্তর সম্পত্তি নিজের কব্জায় রাখতে ২০১৪ সালে নওগাঁর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মন্দির কমিটির সন্তোষ কুমার সরকার, অবিনাশ চন্দ্র সরকার ও কার্তিক চন্দ্র সরকার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিবাদি করা হয়। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার সরকার ও সদস্য অবিনাশ চন্দ্র সরকার জানান, দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হওয়ায় মন্দিরের পূজা-অর্চনার কাজে বিঘœ ঘটছে। অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদের দাবি জানান তারা।
এবিষয়ে আব্দুল গফুরের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ