মান্দায় নৈশ্যপ্রহরী হত্যা || মাদরাসা ছাড়ছে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইসলামিয়া দারুল উলুম কওমিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার নৈশ্যপ্রহরী (চুক্তিভিত্তিক) মনসুর রহমান (৩৫) হত্যাকা-ের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাদরাসাটিতে আবাসিক শিক্ষার্থীর ২০ জনের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে মাত্র চার জন। হত্যাকা-ের পর আতঙ্কিত অধিকাংশ শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে গেছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও নেমে এসেছে অর্ধেকে।
এদিকে ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করতে পারে নি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী একব্যক্তি ও তার বাড়ির কর্মচারী গা ঢাকা দিয়েছে। হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের স্বজনসহ ১০ জনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখনো কোন ক্লু উদঘাটন হয় নি। তবে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বেশকিছু আলামত জব্দ করার কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, খুব দ্রুত এ হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের বেলাতেও মাদরাসা এলাকায় বিরাজ করছে সুনশান নিরবতা। মাদরাসার একটি কক্ষের দরজা খুলে ঘুমিয়ে ছিলেন শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ জামিসহ চার শিক্ষার্থী। মোটরসাইকেলের হর্ন পেয়ে ঘুম থেকে তড়িঘড়ি উঠে বসেন শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ। সেখানে বসেই কথা হয় তার সঙ্গে।
শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ জানান, নৈশ্যপ্রহরী মনসুর হত্যাকা-ের পর শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আবাসিকে অধ্যয়নরত ২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বর্তমানে উপস্থিত রয়েছে মাত্র চার জন। এদের মধ্যে তিনজন স্থানীয় ও একজন বহিরাগত। ভয়ে তিনিসহ শিক্ষার্থীরা মাদরাসার আবাসিক কক্ষে রাতযাপন করছেন না। আতঙ্কিত অন্য শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলে গেছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ধর্মীয় এ প্রতিষ্ঠানটি। তিনি আরো বলেন, কোনোভাবেই এ খুনের ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
ভালাইন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মুক্তার জানান, নিহত মনসুর রহমান পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক ছিলো। এ পেশার আয় দিয়েই সংসার চালাতো। অবসর সময়ে মাদরাসার টুকিটাকি কাজ করতো। মাদরাসাভক্ত হওয়ায় ছুটির সময়ে দেখভালের জন্য তাকেই দায়িত্ব দেয় পরিচালনা কমিটি। অত্যন্ত সহজ সরল যুবকটি কি কারণে খুনের শিকার হলেন এ প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পারছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার পর থেকে ভালাইন গ্রামের প্রভাবশালী একব্যক্তি ও তার কর্মচারী গা ঢাকা দিয়েছেন। এতে করে সন্দেহের তীর ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে তাদের দিকেই।
এদিকে নৃশংস এ খুনের রহস্য উদঘাটনে নিহতের বাবা আবদুুল মালেক, মা আলোজান বিবি, বোন মাসুদা বিবি, ছোটবোনের স্বামী ফারুক হোসেন, ভাগ্নে মাহবুব আলম, গ্রামের মোস্তাকিম হোসেন, মাদরাসা এলাকার বাসিন্দা ছইবুর রহমান ও তার ভাই খয়বর রহমান ওরফে বাদলসহ মাদরাসা শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, ইতোমধ্যে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি তা প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অচিরেই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া হবে।
এর আগে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইসলামিয়া দারুল উলুম কওমিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় নৈশ্য প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে মনসুর রহমান নামে এক যুবককে গত ৩ জুলাই রাত ১১টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত মনসুর রহমান উপজেলার ভালাইন গ্রামের আবদুুল মালেক সরদারের ছেলে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ