মান্দায় পিইসি পাসের এক বছরেই জেএসসির সনদ!

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


মাত্র একবছরের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর হাতে পিইসি ও জেএসসি দুই পরীক্ষার সনদ। ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া না করেও এখন তারা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই সনদপত্রে তাদের জন্ম তারিখও রয়েছে ভিন্ন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে এ কাজটি করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডিএম আব্দুর রহমান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ নুরুল্লাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন ও নিলুফা ইয়াসমিন ২০১৫ সালে পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। নুরুল্লাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় ফাতেমার রোল নম্বর ছিল ৪১৬৯ ও নিলুফার ৪১৭৩। পরীক্ষায় ফাতেমা জিপিএ ৫ এবং নিলুফা এ গ্রেড লাভ করে। এ পরীক্ষার সনদপত্রে ফাতেমার জন্ম তারিখ রয়েছে ২৫/০৪/২০০৪ ইং এবং নিলুফার ১৬/০৪/২০০৩ ইং। দক্ষিণ নুরুল্লাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল মন্ডল শিক্ষার্থী ফাতেমা ও নিলুফার ২০১৫ সালে পিইসি পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে ২০১৬ সালে এ দুই শিক্ষার্থীকে জোতবাজার আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। একই বছর ওই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তারা দু’জনেই জিপিএ ৫ লাভ করে। এ পরীক্ষায় ফাতেমার জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ২৫/০৪/২০০২ ইং এবং নিলুফার ২৮/০৮/২০০২ ইং।
তারা এখন ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি করে অহরহ এ ধরণের কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে কিভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে এনিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তবে, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হন নি।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি মান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাহাপুর ডিএ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সোরয়ার স্বপন জানান, বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করানো বিধিসম্মত নয়। পিইসি পাশ করা শিক্ষার্থীকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করানো সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, বিধিগতভাবে ওই দুই শিক্ষার্থীর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা। অথচ দুই ক্লাস ডিঙিয়ে তাদের কিভাবে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি দেখানো হয়েছে সেটি বোধগম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অবৈধ বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডিএম আব্দুর রহমান এ প্রসঙ্গে কথা না বলে পাশ কাটিয়ে যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাক্ষাতে আলাপ হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুজ্জামান জানান, বিষয়টি আলাদিনের প্রদীপের মতো। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে ফের রেজিষ্ট্রেশন করে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহন করেছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও এসব পরীক্ষার্থীর নতুন করে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছিল একই বিদ্যালয় থেকে। স্থানীয়দের দাবি, ছাত্রীদের উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাত অথবা বিদ্যালয়ের ভাল ফল দেখানোর জন্য এ অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।