মান্দায় পুলিশ হেফাজতে সাগর হত্যা || ১১ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


নওগাঁর মান্দায় পুলিশ হেফাজতে মনোয়ারুল ইসলাম সাগর মৃত্যু ঘটনার ১১ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে নওগাঁর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম তাঁর চেম্বারে পাঁচজন সাক্ষির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সাগরের ছোট বোন ফাতেমাতুজ্জোহরা সাথী, তাঁর স্ত্রীর বড় ভাই মঞ্জুরুল আলম ও নজরুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী সুলাইমান আলী ও মাহবুব আলী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে সন্ত্রাসী হামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পোরশা উপজেলার হাটখোলা মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সাগরকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ভোরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। সাগরের শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে। ঘটনায় ফুঁসে উঠে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সাগরের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই সময় সংগ্রাম কমিটি গঠন করে শুরু হয় নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধসহ দেলুয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তমঞ্চ তৈরি করে লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সাগরের মা মর্জিনা আলম শাহ মান্দা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদার রহমান, এসআই তোফাজ্জল হোসেন খান, এসআই শাকিল আহমেদ, পোরশা থানার ওসি আনিসুর রহমান, মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকতা আইয়ুব আলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলি আদালতে (মান্দা) হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনা তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।
২০১১ সালে সিআইডি আদালতে জমা দেয়া তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে এ মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলে বাদিপক্ষ এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আসামি তোফাজ্জল হোসেন খানের করা একটি রিট মামলার আপিলের শুনানি নিয়ে রিটটি না মঞ্জুর করে ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩১ মে এই আদেশ দেন। আদেশ গ্রহণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, আসামিপক্ষ বেশ কয়েকবার মামলাটিকে বিলম্বিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই হাইকোর্ট তাঁদের আবেদন না মঞ্জুর করেছেন। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি রিট আপিলের শুনানি নিয়ে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।