মান্দায় বালুমহাল এক ইজারায় আড়াই বছর || সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি টাকা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

জিল্লুর রহমান, মান্দা


নওগাঁর মান্দা উপজেলার বালুমহাল (উজান অংশ) অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কামাল হোসেন নামে একব্যক্তি ১৪২২ সনের জন্য একবার ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে। অভিযোগ উঠেছে, ইজারাদার কামাল হোসেন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে উচ্চআদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে কব্জায় রেখেছে বালুমহালটি।
দ্বিতীয় দফায় করা রিটের মেয়াদ গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হলেও বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এ কারণে সরকার এ বালুমহাল থেকে রাজস্ব হারিয়েছে অন্তত তিন কোটি টাকা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলার দোসতি গ্রামের ময়নুল ইসলাম জুয়েল নামে একব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক নওগাঁ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নওগাঁসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মান্দার আত্রাই নদীর উজান অংশের বালুমহাল ১৪২২ সনে ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এক কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৫২৩ টাকায় (ভ্যাট ও আয়কর ছাড়া) ইজারা গ্রহণ করেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী এলাকার কামাল হোসেন। ইজারামূল্য পরিশোধ করলেও ভ্যাট-আয়কর না দিয়েই তিনি ওই বছরের এক বৈশাখ (১৪ এপ্রিল ২০১৫) থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন। বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেই তিনি ২০১৫ সালের ৫ ও ১০ মে বালুমহাল বুঝে নেয়ার জন্য মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।
ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বালুমহালটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে দেয়ার জন্য সহকারী কমিশনারের দফতর থেকে ইজারাদার কামাল হোসেনকে পত্র দেয়া হয়। এরপরও বালুমহালটি বুঝে না নিয়ে ইজারাদার কামাল হোসেন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কালক্ষেপণ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে না নিয়েও তিনি ১৪২২ সনের ১ বৈশাখ থেকে বালু উত্তোলন ও নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছেন মর্মে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে সহকারী কমিশনারের দফতর থেকে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়।
এদিকে চতুর ইজারাদার কামাল হোসেন ইজারা প্রাপ্তির ৯ মাস পর ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বালুমহাল বুঝে নেয়ার জন্য উচ্চআদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত একবছর সময় বাড়িয়ে দেয়। এ মেয়াদ শেষ হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাত দেখিয়ে উচ্চআদালতে আবারো রিট দায়ের করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চলতি বছরের ৯ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৬ মাস সময় বাড়িয়ে দেন আদালত। এরপরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন ইজারাদার কামাল হোসেন। এদিকে দুই রিট আবেদনের ফাঁকে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই তিন মাস ধরে ২০-২২টি ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন তিনি।
অভিযোগকারী ময়নুল ইসলাম জুয়েল দাবি করেন, মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর উজান অংশের বালুমহাল ১৪২২ সনে একবার ইজারা নিয়ে ইজারাদার কামাল হোসেন আড়াই বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ইজারাদার কামাল হোসেন উচ্চআদালতে দ্বিতীয় দফায় দায়ের করা রিটের মেয়াদ গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষে হয়েছে। এরপরও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন কামাল হোসেন। এতে করে সরকার গত দেড় বছরে অন্তত তিন কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ইজারা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তিনি দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে রিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার কথা স্বীকার করেছেন ইজারাদারের শেয়ারপার্টনার মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্তে আবারো রিট পিটিশন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, বালুমহাল দখলে রেখে বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রাখার পরও কামাল হোসেন উচ্চ আদালতে দুইদফা রিট আবেদন করে ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। উচ্চ আদালতের আদেশের কারণে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় নি। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দুই-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।