মান্দায় বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বে বরের আত্মহত্যা

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


বুধবার (১৯ জানুয়ারি) ছিল আশীর্বাদের দিন। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিয়ের শুভক্ষণের অপেক্ষায় ছিলেন দুই পরিবার। আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণও করা হয়েছিল। কিন্তু আশীর্বাদের একদিন আগে আত্মহত্যা করেন বর সুজন কুমার প্রামাণিক (২২)। মুহূর্তে দুই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। তবে কী কারণে সুজন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তা জানা যায়নি।
মৃত সুজন কুমার প্রামাণিক উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লী পলাশবাড়ী গ্রামের বিপুল চন্দ্র প্রামাণিকের ছেলে। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, মৃত সুজন কুমারের সঙ্গে রাজশাহীর তানোর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুজন বিষয়টি বাবা-মাকে অবহিত করে তাঁকে বিয়ে করবে বলে জানায়। কিন্তু মেয়ের পরিবার গবির হওয়ায় এ সম্পর্কে আপত্তি জানায় তাঁর পরিবার। এনিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে সুজনের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, সুজনের পরিবারের টালবাহানার কারণে মেয়ের পরিবার অন্য পাত্রের সঙ্গে আশীর্বাদ সম্পন্ন করেন। এ অবস্থায় সুজনের জেদের কারণে আগের বিয়েটি ভেঙে দেন মেয়ের পরিবার। পরে উভয় পরিবারের মতামতে সুজনের সঙ্গে তাঁর প্রেমিকার বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হয়। বুধবার তাঁদের আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল। তবে কী কারণে সুজন আত্মহত্যা করেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

মৃতের বাবা বিপুল চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে ছেলে সুজন মোবাইলফোনে দফায় দফায় কোথাও কথা বলছিল। এক পর্যায়ে না খেয়েই শুয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছেলে ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে গিয়ে দেখেন জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় চাদর পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। পরে সেটি কেটে দিলে মেঝেতে পড়ে যায়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, মৃতের কপালসহ কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।